Home / What’s Trading Strategy?

What’s Trading Strategy?

ট্রেডিং স্ট্রাটেজি কী?

ট্রেডিং স্ট্রাটেজি মানে হল আপনি কিভাবে ট্রেড করবেন। আপনার সম্পূর্ণ ট্রেডিং প্লান। আপনার ট্রেড করার অবশ্যই একটি নিয়ম থাকা উচিত। তাই আপনি বাই করুন, অথবা সেল করুন তার একটা কারণ অবশ্যই থাকতে হবে। আপনি যেই ট্রেডিং স্ট্রাটেজি অনুসরণ করবেন, তাই আপনাকে বলে দিবে এখন আপনার বাই করা উচিত না সেল করা উচিত, অথবা এখন ট্রেড করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজির নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকতে হবেঃ
* কখন বাই-সেল করবেন অথবা ট্রেড থেকে বিরত থাকবেন;
* কী পরিমাণ ভলিউমে/লটে ট্রেড করবেন;
* কী পরিমাণ রিস্ক নিবেন প্রতিটি ট্রেডে;
* স্টপ লস/ টেক প্রফিট/ ট্রেইলিং স্টপ কত ইউজ করবেন;
* এক সাথে সর্বোচ্চ কতগুলো ট্রেড করবেন;
* কেন ট্রেড করবেন? কেন বাই করবেন? কেন সেল করবেন?
আমরা একেকজন ট্রেডার একেকভাবে ট্রেড করি। কেউ ইন্ডিকেটর দেখে ট্রেড করি, কেউবা প্রাইস অ্যাকশান দেখে ট্রেড করি, কেউ আবার আন্দাজে প্রাইস বাড়া-কমা দেখে ট্রেড করি। কিন্তু আপনার যদি একটি ট্রেডিং স্ট্রাটেজি থাকে, তাহলে আপনার আর এরকম দ্বিধা থাকবেনা যে এখন কি বাই করবো না সেল করবো? কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবেনা, অথবা কারও কাছ থেকে সিগন্যাল নিতে হবেনা। কারণ আপনি তখন জানেন কিভাবে সিগন্যাল বানাতে হয়। আপনি নিজেই সিগন্যাল বানাতে পারবেন এবং আরেকজনকে দিতে পারবেন (সাবধান! সে লস করলে কিন্তু আপনাকেই দোষ দিবে)।
যেহেতু আমরা প্রায় সবাই ইন্ডিকেটর ফলো করে ট্রেড করি, তাই প্রথমে ইন্ডিকেটর বেসড ট্রেডিং স্ট্রাটেজির কথাই বলা যাক।

উদাহরণ- ১
নিচের চার্টটি দেখুন। এখানে একটি লাল লাইন দেখা যাচ্ছে। এটা হল মুভিং এভারেজের লাইন। ধরুন এটাই আমাদের ট্রেডিং স্ট্রাটেজি। মুভিং এভারেজ আমাদের মার্কেট ট্রেন্ড নির্দেশ করে। লাল লাইনের ওপরে যখন ক্যান্ডেল থাকে তখন বাই সিগন্যাল, আর যখন ক্যান্ডেল লাল লাইনের নিচে থাকে তখন সেল সিগন্যাল।

আপনি একটি ট্রেড করলেন, প্রফিটও হল। (সব সময় যে কাজ করবে তা নয়, কীভাবে সিগন্যাল আরও রিস্ক ফ্রি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা পরে আলোচনা করবো)। এখন যদি কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করে, বাই দিলেন কেন? সেল কেনো দিলেন না? তখন আপনার উত্তর হবে আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি; আপনার স্ট্রাটেজি আপনাকে বলেছে বাই করতে। এখন থেকে আপনাকে আর আন্দাজে ট্রেড করতে হবে না। আপনার এই ট্রেডিং স্ট্রাটেজি আপনাকে বলে দিবে এখন বাই করুন, এখন সেল করুন; আপনি সেভাবে ট্রেড করবেন। অন্তত আন্দাজে ট্রেড করার থেকে কি এটা ভাল নয়?

উদাহরণ- ২
এবার আমরা মুভিং এভারেজের সাথে আরেকটা ইনডিকেটর যোগ করে সিগন্যালটাকে ফিল্টার করে আরও পারফেক্ট করার চেষ্টা করবো।
নিচের চার্টে দেখুন। চার্টে প্যারাবোলিক ইন্ডিকেটর যোগ করা হয়েছে। এখন থেকে যদি ২টি ইন্ডিকেটর বাই করতে বলে তবেই আমরা বাই করবো, আবার ২টি ইন্ডিকেটর যদি সেল করতে বলে, তবেই আমরা সেল করবো। কিন্তু যদি ২টি ইন্ডিকেটর ভিন্ন ভিন্ন সিগন্যাল দেখায়, তবে ট্রেড করা থেকে বিরত থাকবো। প্যারাবোলিক ইন্ডিকেটরে ডট যখন ক্যান্ডেলের নিচে থাকে তা তখন বাই নির্দেশ করে, আর ডট যখন ক্যান্ডেলের ওপরে থাকে তখন তা সেল নির্দেশ করে।

দেখুন মুভিং এভারেজ লাল দাগের ওপরে। আবার প্যারাবোলিকও ক্যান্ডেলের নিচে ডট দেখাচ্ছে। তার মানে ২টাই বাই নির্দেশ করছে। তাহলে এখন বাই করার পক্ষে যুক্তি বেশি। তবে ৩টি ডট এন্ট্রি নেওয়ার জন্য কনফার্মেশন প্রদান করে। আবার বিপরীত দিকে ৩টি ডট হলেই ট্রেড ক্লোজ করতে হবে।
এগুলো শুধুমাত্র উদাহরণ। বোঝার সুবিধার্থে এভাবে দেখানো হয়েছে।

ট্রেড থেকে এক্সিটঃ
ট্রেড তো ওপেন করা হল, প্রফিটও হচ্ছে। কিন্তু কথা হল ট্রেড ক্লোজ করবো কখন? কত প্রফিটে ক্লোজ করবো? ১০ পিপস? ৫০ পিপস না ১০০ পিপস? কিংবা ট্রেড লসে চলে যাচ্ছে, কত লসে ক্লোজ করবেন? ১০ পিপস লসেই কি ক্লোজ করে দিবেন? না ২০০ পিপস লস পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? তাই অবশ্যই আপনার ট্রেড থেকে এক্সিট হওয়ার একটি নিয়ম দরকার।
এটা নির্ভর করে আপনার মানি ম্যানেজমেন্টের ওপর। ধরুন আপনি $১০০০ ডিপোজিট করেছেন। আপনি চান আপনার প্রতিটি ট্রেডে সর্বোচ্চ ৫% রিস্ক নিতে। তাহলে আপনি প্রতি ট্রেডে সর্বোচ্চ $৫০ লস করতে রাজি আছেন। তাহলে আপনি যদি ৫০ পিপস স্টপ লস সেট করতে চান। পিপস ভ্যালু $১ সেট করতে হবে। আবার যদি ১০০ পিপস স্টপ লস সেট করতে চান তাহলে পিপস ভ্যালু ৫০ সেন্ট সিলেক্ট করতে হবে।
এবার প্রসঙ্গে আসি কেন ট্রেড ক্লোজ করবেন।
* একটি কারণ হতে পারে আপনি আপনার টার্গেট অনুযায়ী প্রফিট পেয়ে গেছেন এই ট্রেড থেকে। তাই আর প্রফিট দরকার নেই। ট্রেড ক্লোজ করে দিন।
* আরেকটি কারণ হল এখন ট্রেন্ড পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আপনার লাভ কমে যেতে পারে অথবা লস আরও বাড়তে পারে। তাই পুরনো ট্রেড ক্লোজ করে দিয়ে নতুন ট্রেন্ড ধরতে চেষ্টা করুন। লসের ট্রেড লাভে আসবে এরকম আশা করে অনেক লস শিকার করাটা অনেক সময় বোকামি। ট্রেডিং স্ট্রাটেজি মেনে চলুন।

স্টপ লস সেট করার নিয়মঃ
* আপনি সাপোর্ট-রেসিসট্যান্স-পিভট পয়েন্টের অনুযায়ী স্টপ লস সেট করতে পারেন;
* ফিক্সড ৩০/৫০/১০০ পিপস সেট করতে পারেন। যদিও এ ধরনের স্টপ লস অধিকাংশ সময় আপনার ট্রেড লসে ক্লোজ হবার কারণ হিসেবে দেখা দেয়।

টেক প্রফিট সেট করার নিয়মঃ
* আপনি সাপোর্ট-রেসিসট্যান্স-পিভট পয়েন্টের অনুযায়ী টেক প্রফিট সেট করতে পারেন;
* ফিক্সড ৩০/৫০/১০০ পিপস সেট করতে পারেন।
* ট্রেইলিং স্টপ হিসেবে ১৫/২৫/ইত্যাদি সংখ্যক পিপস সেট করতে পারেন। ট্রেইলিং স্টপ নিজে নিজেই আপনার ট্রেডে প্রফিট বাড়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট সংখ্যক পিপস দূরত্ব রেখে ট্রেড লাভে ক্লোজ হবার পয়েন্ট সেট করবে।

এক সাথে সর্বোচ্চ কতগুলো ট্রেড করবেন?
এটা আপনার ট্রেডিং সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে যে এক সাথে আপনি কতগুলো ট্রেড করবেন। মনে রাখবেন, এক সাথে আপনি যেন কোনভাবেই ৫% এর বেশি রিস্ক নিয়ে ট্রেড না করেন। যদি আপনি এক সাথে বিভিন্ন পেয়ার নিয়ে ট্রেড করতে চান, তাহলে লক্ষ করবেন যে সবগুলো ট্রেডের রিস্ক যেনও সব মিলিয়ে আপনার অ্যাকাউন্টের ৫% এর বেশি না যায়। মোট কথা, বেশি লস হবার কোন সুযোগ দিবেন না।

শেষকথাঃ এখন আপনি জানেন কিভাবে ট্রেড করতে হবে। কখন বাই করবেন, কিংবা কখন সেল করবেন। কখন ট্রেড লসে ক্লোজ করতে হবে বা কতটুকু লাভ নিয়ে ট্রেড ক্লোজ করা উচিত। এগুলো সবকিছু নিয়েই আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি। ট্রেডিং স্ট্রাটেজি না মেনে ট্রেড করবেন, মানে আপনি লসের দিকে একধাপ এগিয়ে যাবেন। এখন আপনিও ফরেক্সের অস্ত্রাগার থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রগুলো বেছে নিয়ে আপনার নিজের ট্রেডিং স্ট্রাটেজি তৈরি করে ফেলুন। অন্যদের স্ট্রাটেজিগুলো টেস্ট করুন এবং যেগুলো ভাল সেগুলো নিজেরটার সাথে যোগ করে আরও ডেভেলপ স্ট্রাটেজি তৈরি করে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। কোন প্রশ্ন থাকলে বা কিছু না বুঝলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Language »