Home / Technical Analysis

Technical Analysis

টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস

টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস হল একটি দামের ভবিষ্যদ্বাণী করার পদ্ধতি যাতে চার্টে নকশা চিহ্নিতকরণের প্রয়োজন হয়। বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন টুল ব্যবহার করেন সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্সের স্তর, ব্রেকআউট এবং ব্রেকডাউন, ট্রেন্ড ও ট্রেডিং রেঞ্জগুলি। কৌশলের প্রাথমিক বিষয়গুলি জানলে, আপনি হয়ত নিজেকে কয়েকটি প্রধান জিনিস কার্যকরী করতে পারবেন এবং কৌশলের নিজস্বকরণ করতে পারবেন।

 চার্ট
একটি চার্ট হল, নির্দিষ্ট সময়সীমায় কীভাবে দাম পরিবর্তিত হয় তার একটি গ্রাফিক প্রদর্শন। প্রায় যে কোনো ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে আপনি পাবেন ক্যান্ডেলস্টিক, বার এবং লাইন চার্ট প্রকার। তিন প্রকারের সবকটি আধারিত হয় একই ডেটার উপরে, কিন্তু তারা প্রদর্শিত হয় আলাদা ভাবে।
* লাইন চার্ট হল সবচেয়ে সরল এবং সবচেয়ে সাধারণ প্রকার যা কেবলমাত্র ক্লোজিং দাম দেখায়।
* বার চার্টে আপনি দেখতে পারবেন ওপেন, বাই, লো এবং ক্লোজিং দামগুলি প্রতিটি সময়সীমায়। লম্বালম্বি লাইনটি তৈরি হয়েছে উচ্চ এবং নিম্ন দাম দ্বারা, বাঁদিকের ড্যাশটি হল ওপেন দাম এবং ডানদিকের ড্যাশটি হল ক্লোজ দাম।
* হয়ত সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকার হল, ক্যান্ডেলস্টিক চার্ট যা দেখায় ওপেন, হাই, লো এবং ক্লোজিং দামগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্যেও। প্রতিটি ক্যান্ডেলস্টিক তৈরি হয় “বডি” দিয়ে যা গঠিত হয় ওপেন ও ক্লোজিং দাম দিয়ে এবং “উইক” (সলতে) দিয়ে যা দেখায় উচ্চ এবং নিম্ন দাম প্রতিটি সময়সীমার জন্য। এই প্রকারের চার্ট সাধারণত প্রদর্শিত হয় দুটি আলাদা রঙে – একটি দেখায় বুলিশ ক্যান্ডেলস্টিক যখন অন্যটি হল বিয়ারিশ। বুলিশ ক্যান্ডেলস্টিক মানে ক্লোজ দাম যা ওপেন দামের চেয়ে বেশি ছিল এবং বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিক প্রদর্শন করে ঠিক তার বিপরীত- ক্লোজ দাম কম ছিল ওপেন দামের চেয়ে।

মনে রাখবেন যে, সব চার্টগুলি দেখায় উপরের কেবলমাত্র বিড দাম এবং আপনি তাদের উপর নির্ভর করবেন না যাতে চিহ্নিত করতে পারেন কোথায় আস্ক দাম ছিল একটি নির্দিষ্ট সময়ে।

 সময়সীমা
সময়সীমার মানে হল যতটা সময় প্রয়োজন হয় প্রতিটি ক্যান্ডেল বা বার সম্পূর্ণ করতে কতটা ডেটা তার ভিতরে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সময়সীমা H1 দেখায় কতটা বিড দাম উপর নিচে হয়েছে এক ঘণ্টায়। আপনি কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন সময়সীমাকে প্রতিটি চার্টের জন্য আপনার ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে।
সাধারণত, স্বল্প সময়সীমা অনেক বেশি সিগন্যাল তৈরি করতে পারে, কিন্তু তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তার উল্টোদিকে, দীর্ঘ সময়সীমা প্রদান করতে পারে তুলনামূলক কম সিগন্যাল কিন্তু তারা হবে আরও দৃঢ় এবং আরও উল্লেখযোগ্য একটি নির্দিষ্ট প্রবণতার জন্য।

 প্রবণতা
প্রবণতা বা যে দিকে বাজার এগোতে পারে সেটি চিহ্নিত করা হল অন্যতম প্রধান টেকনিক এই বিশ্লেষণের। মাঝে মাঝে এটি নির্ধারিত হতে পারে কেবলমাত্র চার্টটি দেখে। অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে দামের তথ্যকে আরও গভীর বিশ্লেষণ করতে হবে।
দুটি প্রধান বাজারের প্রবণতা থাকে:
* ঊর্ধ্বগামী (আপট্রেন্ড)- ধারাবাহিকভাবে বেশি হওয়া উচ্চ ও নিম্ন পয়েন্টগুলি;
* নিম্নগামী (ডাউনট্রেন্ড)- চার্টে ধারাবাহিকভাবে কম উচ্চ ও কম নিম্ন পয়েন্টগুলি।
নির্দিষ্ট দিক না থাকার কারণে, মাঝে মাঝে পাশাপাশি বা আনুভূমিক প্রবণতা দেখা যায়।
প্রবণতা চিহ্নিত করতে, আপনি একটি সরল রেখা আঁকতে পারেন চার্টে দামের চলনের দিকে। “ট্রেন্ড লাইনগুলি” লভ্য হয় প্রতিটি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে এবং তাদের মনে করে হয় নবিশ-বান্ধব টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস টুল। আরেকটি বিকল্প হল টেকনিক্যাল সূচক যা নির্ধারণ করে ও প্রদর্শন করে একটি প্রবণতা যখন চার্টে যোগ করা হয়।

 সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স
সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল সন্ধান করা আপনাদের সক্ষম করবে এটি নির্ধারণ করতে যে কখন ও কোন দিকে একটি পজিশন ওপেন করতে হবে এবং সম্ভাব্য লাভ ও ক্ষতি যা হতে পারে। সাপোর্ট হল সেই দামের স্তর যার নিচে কোনো সম্পদের যাওয়া কঠিন হয় এবং রেজিস্ট্যান্স সেই স্তর নির্দেশ করে যার উপরে কোনো জোড়ার যাওয়া কঠিন। এই স্তরগুলিতে কিন্তু, সবসময়ে একটি “ব্রেক-আউট” বা একটি “ব্রেকডাউন” থাকে না এবং তারা মাঝে মাঝে এক দিকে থাকে।
সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভল একটি ট্রেডিং রেঞ্জ তৈরি করে – একটি আনুভুমিক করিডোর যাতে থাকে দামের ওঠা-পড়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমায়।
চিহ্নিত রেজিস্ট্যান্সের স্তরের মাধ্যমে একটি দামের ওঠা-পড়াকে বলা হয় ব্রেকআউট। তার বিয়ারিশ অংশকে বলা হয়- একটি দামের ওঠা-পড়া চিহ্নিত সাপোর্টের স্তরের মাধ্যমে। ব্রেকআউট এবং ব্রেকডাউন, উভয়ের পরেই সাধারণত অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স চিহ্নিত করতে আপনাকে শুধুমাত্র চিহ্নিত করতে হবে সেই সবস্তর যেখানে দামের, অতীতের চেয়ে বেশি বাড়া ও কমার সম্ভাবনা নেই। বিভিন্ন টেকনিক্যাল সূচকগুলি (অর্থাৎ ফিবোনাচ্চি বা পিভট পয়েন্টগুলি) নির্ধারণ করতে পারে এবং চার্টে স্তর আঁকতে পারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

 সূচকগুলি
প্রবণতা, নকশা, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স স্তরের বা ক্রয় ও বিক্রয় সিগন্যাল-এর ভবিষ্যদ্বাণী করতে বা তা নিশ্চিত করতে সহায়তাকারী একটি ট্যুল হল টেকনিক্যাল সূচক। এটি একটি সফটওয়্যার যা বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে আপনার ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম -এর জন্য যা গণনা করে থাকে দামের ওঠাপড়া ও অস্থিরতার ভিত্তিতে। MT4-এ আছে বিভিন্ন সহজে লভ্য সূচক, কিন্তু আপনি নিজের পছন্দমতো আরও অনেকগুলি ডাউনলোড করতে পারবেন অথবা নিজে একটি তৈরি করতে পারবেন।
দামের চার্টে একটি সূচক যোগ করলে বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার বোধ বৃদ্ধি করতে পারে এবং আপনাকে সাহায্য করতে পারে কোন দিকে আপনি ট্রেডিং করবেন। উদাহরণস্বরূপ, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল চিহ্নিত করতে, সেই প্রকার সূচকগুলি যেমন ফিবোনাচ্চি ও পিভট পয়েন্ট আপনার পক্ষে সাহায্যকারী হতে পারে। মোমেন্টাম সূচক আপনাকে সাহায্য করবে দামের পরিবর্তন পরিমাপ করতে এবং জিগ জ্যাগ ব্যবহার করা যাবে এই ভবিষ্যদ্বাণী করতে, কখন প্রবণতা উল্টো দিকে যাবে।

*টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস (টিএ) অ্যাসেটের (আমাদের ক্ষেত্রে, কারেন্সি) পূর্বের পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের পারফর্মেন্স অনুমান করা। ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিসের বিপরীতে যা অ্যাসেটের “ভ্যালু” সম্পর্কিত, টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস শুধু প্রাইস, ভলিউম এবং অন্যান্য মার্কেট সম্পর্কিত তথ্যের ওপর নজর দেয়। কিছু কিছু ট্রেডার শুধু টেকনিক্যাল অথবা ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস ব্যাবহার করে থাকে, আর অন্যরা দুটো যোগ করে ট্রেডের সিদ্ধান্ত নেয়।
টিএ এই মর্মে বিশ্বাসী যে, প্রাইস সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রদান করে, তাই অর্থনৈতিক অথবা ফাইনান্স্যিয়াল ডাটা দেখার চেয়ে হিস্টরিক্যাল ট্রেডের দিকে মনোযোগ দেয়া ভালো। টিএ অনুযায়ী, ট্রেডাররা সংঘবদ্ধভাবে প্যাটার্নের চালচলন দেখে। চাটিস্টরা চেনার মতো ট্রেন্ড এবং প্যাটার্ন দেখে, কারণ প্রাইস অ্যাকশনের পুনরাবৃত্তি হয়। টেকনিক্যাল অ্যানালিস্টরা বিশেষ ইনডিকেটর এবং ট্যুল ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ প্রাইস অনুমান করতে।

 টাইমফ্রেম
আপনি ট্রেডের সময়সীমা (টাইমফ্রেম) নিম্নোক্ত উপায়ে অ্যানালাইজ করতে পারেনঃ মাসিক, সাপ্তাহিক, দৈনিক, ৪ ঘণ্টা, ১ ঘণ্টা, ৩০ মিনিট, ১৫ মিনিট, ১০ মিনিট, ৫ মিনিট, ১ মিনিট। টাইমফ্রেম নির্বাচন নির্ভর করে অ্যানালিসিসের লক্ষ্যমাত্রার ওপর।

Language »