Home / Position, Swing, Trend Trading & Carry Trade

Position, Swing, Trend Trading & Carry Trade

* পজিশন ট্রেডিং

* সুইং ট্রেডিং

* ট্রেন্ড ট্রেডিং

* ক্যারি ট্রেড

 

পজিশন ট্রেডিং

পজিশন ট্রেডিং হচ্ছে দীর্ঘকালীন ট্রেডিং স্টাইল যাতে ফান্ডামেন্টাল সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হয়, ব্যতিক্রমধর্মী সাহস ও তার সাথে ভালো দূরদর্শিতা যে লং-টার্মে প্রাইস কিভাবে ওঠানামা করতে পারে। এটি এমন ট্রেডিং স্টাইল অতি সাহসী এবং অনেক ধৈর্যশীল ট্রেডারদের জন্য, তারা যারা তাদের উপযুক্ত পুরস্কার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দ্বিধাবোধ করেনা।
পজিশন ট্রেডারদের মূল লক্ষ্য থাকে শর্ট-টার্ম মার্কেটের ওঠানামার চেয়ে মূল ট্রেন্ড থেকে লাভ নেয়ার।
সাধারণত, পজিশন ট্রেডাররা শুধু অত্যন্ত চালাকই নয়, বরং অনেক ধনীও বটে। বড় ধরনের পতন এবং প্রাইসের সুইং থেকে বাঁচতে, যেকোনো পজিশন ট্রেডারের বড় পরিমাপের অ্যাকাউন্ট থাকা লাগে।
পজিশন ট্রেডাররা হচ্ছে স্বাধীন চিন্তার মানুষ। তারা তাদের নিজেদের প্রত্যয়ের ওপর চলে এবং মার্কেটের র‌্যান্ডম ওঠানামাকে নজরান্দাজ করে যা কম আত্মবিশ্বাসী ট্রেডারদের ভয়ে ফেলে দেয়।
একজন ট্রেডারের উদাহরণ-
সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী মার্কেটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা লং-টার্ম ট্রেড করে তাদের কথা চিন্তা করলে প্রথম নামটি আসে ওয়ারেন বাফেটের। তিনি একজন কিংবদন্তি এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনীদের মধ্যে একজন। ২০০২ সাল থেকে তাকে সকলে সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী এবং এফএক্স মার্কেটে পজিশন ট্রেডার হিসেবে চেনে। সে সময় বাফেট ইউএস ডলার সেল করেছিলো এই বলে যে এটা পড়বে কারণ আমেরিকার ট্রেডে ঘাটতি হচ্ছে। পরবর্তী কয়েক বছর তার জন্য সফল ছিলো, কিন্তু ২০০৫ সালে ইউএস কারেন্সি ওপরে ওঠে এবং বাফেট তার ইউএসডির পজিশনগুলো থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে, সে তার ট্রেডে $২ বিলিয়ন আয় করে। ২০০৫ সালে ইউএসডি যদি না বাড়তো, তাহলে তার লাভ আরও $১ বিলিয়ন বেশী হতো।

সুইং ট্রেডিং

এটা এক ধরনের ট্রেডিং যা ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস এক সাথে মিলিয়ে করা হয় যাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাইস মুভমেন্ট ধরা যায় এবং অকার্যকর সময়ে ট্রেডিং এড়ানো যায়। এটা বিশেষত মিডিয়াম-টার্ম ট্রেডিং স্টাইল যাতে পজিশন কয়েক দিনের জন্য ধরে রাখা হয়, তাই প্রাইস যদি আপনার বিরুদ্ধে যায় তাহলে তার জন্য আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণে ধৈর্য থাকতে হবে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মিডিয়াম-টার্ম ট্রেন্ড চি‎িহ্নত করা এবং মার্কেটে তখনই এন্ট্রি নেয়া যখন প্রায় ১০০% লাভের নিশ্চয়তা থাকবে।
সুইং ট্রেডিং পূর্বেই বড় ধরনের প্রাইসের মুভমেন্টের আশা করে আর তথায় এর জন্য ভালোভাবে-বিবেচিত পজিশন সাইজ ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন যাতে নেতিবাচক ঝুঁকি কমানো যায়।
একজন ট্রেডারের উদাহরণ-
সত্যিকারের জনপ্রিয় সুইং ট্রেডার খুঁজে পাওয়া খুব কষ্টের বিষয়, যদিও এর জন্য প্রচুর কোচ এবং উপদেষ্টা রয়েছে যারা এ ধরনের ট্রেডিং স্টাইল পছন্দ করে। সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সম্মানিত ট্রেডারদের একজন হচ্ছে অ্যালান ফারলে যে সুইং ট্রেডিং স্ট্রাটেজি ব্যবহার করে প্রচুর অর্থ আয় করেছে। সে ডেইলি সুইং ট্রেড এর লেখক, একটি বই যা সুইং ট্রেডারদের ভিন্ন ভিন্ন কলাকৌশল শেখায়। আপনি যদি মনে করেন যে এই স্টাইল আপনার জন্য, তাহলে আপনি সেটা পড়ার চিন্তা করে দেখতে পারেন।

ট্রেন্ড ট্রেডিং

এটা আরেকটি ট্রেডিং স্টাইল যারা ট্রেন্ডিং প্রাইসের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে যা তাদের মতে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। এধরনের ট্রেডাররা সাধারণত যে কারেন্সিতে তারা ট্রেড করে তাতে এন্ট্রি করার পূর্বে, তার অন্তর্নিহিত দুর্বলতা, কারেন্সির অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত ঝুঁকি চি‎ি‎হ্নত করার চেষ্টা করে, ট্রেন্ড ট্রেডিং সত্যিই কার্যকরী। আপনি হয়তো দীর্ঘ সময় ধরে লাভ বাড়াতে পারেন যতক্ষণ পর্যন্ত না ট্রেন্ড রিভার্স করে। কিন্তু ট্রেন্ড রিভার্সালের সময় চি‎িহ্নত করাতে একটু সমস্যা রয়েছে। আপনাকে ফান্ডামেন্টালের দিকে ভালোভাবে নজর রাখতে হবে যাতে আপনার লাভের ট্রেডে বিকৃতি সাধন না হয়।
একজন ট্রেডারের উদাহরণ-
জর্জ সোরোস, বিশ্বের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারীদের একজন, সেই লোক যে কিনা ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডকে সর্বস্বান্ত করেছে ফেলেছে, তিনি হচ্ছেন হয়তো আমাদের সময়ের মুখ্য ট্রেন্ড অনুসরণকারী ট্রেডার। আংশিকভাবে, তার ট্রেন্ড অনুসরণকারী স্ট্রাটেজি, সাহস এবং “ট্রেন্ড-রিভার্সাল” এর ইভেন্টের দূরদর্শিতার কারণে সে বিশ্বের ৩০ জন ধনীর মধ্যে একজন হতে সক্ষম হয়েছে।

ক্যারি ট্রেড

এটা এক ধরনের ট্রেডিং যা একটি কম ইন্টেরেস্ট রেটের কারেন্সি সেল করে এবং তা দিয়ে আরেকটি উচ্চ ইন্টেরেস্ট রেটের কারেন্সি বাই করে। ক্যারি ট্রেডের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্টেরেস্ট রেটে বিদ্যমান ডাইভারজেন্স ধরা এবং লিভারেজের সাহায্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে লাভ করে নেয়া।
ধরে নিন, আপনি লক্ষ্য করলেন সাউথ আফ্রিকার ইন্টেরেস্ট রেট হচ্ছে ৭%, আর ইউএসে বর্তমান ইন্টেরেস্ট রেট হচ্ছে ১%। তাহলে, এই দুই রেটের পার্থক্যের মধ্য দিয়ে আপনি ৬% আয় করার চিন্তা করছেন। এটা হতে গেলে, আপনাকে ইউএসডি ধার নিতে হবে (কম-হারের কারেন্সি, যারা তুলনামূলক কম ইন্টেরেস্ট রেট প্রদান করছে), এবং উচ্চ-হারের কারেন্সি বাই করবেন, আমাদের উদাহরণ অনুযায়ী সাউথ আফ্রিকান র‌্যান্ড। আপনি লিভারেজের সাহায্যে নিজের অর্থ আয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি স্ট্যান্ডার্ড ১০:১ লিভারেজ ব্যবহার করেন তাহলে আপনি ৬০% লাভ করতে পারবেন। কিন্তু এর পেছনে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে- এক্সচেঞ্জ রেটের অনিশ্চয়তা। ZAR যদি USD এর বিপরীতে পড়ে যায়, আপনি আপনার লাভের বড় একটি অংশ হারাবেন।
তাই, যদিও ক্যারি ট্রেড অনেক আকর্ষণীয় মনে হয়ে থাকে, তা ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ করে সংকটপূর্ণ, অনিশ্চিত সময়ে যখন বিনিয়োগকারীরা কম-হারের সেফ-হ্যাভেন খোঁজে আর ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটকে অবহেলা করে, যা উচ্চ লাভ দেয়।
ক্যারি ট্রেডের মাধ্যমে অর্জনকৃত লাভ হয়তো ট্রেডারের লক্ষ্য নাও হতে পারে, এটা প্রাইসের ওঠানামার মধ্য দিয়ে লাভের ভালো একটি বাড়তি আয়ের পথ হতে পারে।
একজন ট্রেডারের উদাহরণ-
জুলিয়ান রবার্টসন হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারি ট্রেডার। সে USD/JPY ট্রেড করতো। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে এই কারেন্সি ৬৬% এর বেশী বেড়েছে, আংশিকভাবে ক্যারি ট্রেডারদের ধন্যবাদ যে উচ্চ-লাভের কারেন্সি বাই করার এবং ইয়েন সেল করার জন্য। ট্রেডার শুধু ইন্টেরেস্ট রেটের পার্থক্য দিয়ে ১৫% লাভ করতে পারতো আর তার সাথে সে USD/JPY এর ওঠাতে ৬৬% বাড়তি পেয়েছে। জুলিয়ান রবার্টসন লিভারেজ দিয়ে USD/JPY ট্রেড করেছিলো এবং সেই সময়সীমার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয় করেছে, যদিও ১৯৯৮ সালে ইয়েনের হঠাৎ বাড়ার কারণে, সে $২ বিলিয়ন হারিয়েছে।

Language »