Home / Market Trend & Range

Market Trend & Range


মার্কেট সর্বদা এক অবস্থায় থাকে না। সেরা ট্রেডিং স্ট্রাটেজি বেছে নিতে, আপনাকে মার্কেটের অবস্থা আগে বুঝতে হবে, মার্কেটের অবস্থা বুঝতে সবসময় টেকনিক্যাল অ্যানালিসিস দিয়ে শুরু করবেন।
মার্কেটের অবস্থা দুই ধরনের হতে পারেঃ ট্রেন্ড এবং রেঞ্জ। আসুন এই অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানি।
মার্কেট ট্রেন্ড, ট্রেন্ড লাইন, ট্রেন্ডের গুরুত্ব : ‘ট্রেন্ড ইজ ইউর ফ্রেন্ড’ এটা আমরা সবাই জানি। মার্কেট ট্রেন্ড ফলো না করার কারণেই শত শত নতুন ট্রেডারের একাউন্ট জিরো হয়।

ট্রেন্ড

আমরা ভাল করেই জানি যে, ফরেক্স এ আমরা দুটি মুদ্রাজোড়া Currency Pair ব্যবহার করি। যেমন EUR/USD, এখানে দুইটি পেয়ারে দুইটি দেশের অর্থনীতি দেশের অবস্থা এগুলোর কারণে মুদ্রা শক্তিশালী বা দুর্বল হয়। একটা বাস্তব কথা হল কোন দেশের ফান্ডামেন্টাল নিউজেই কিন্তু সে দেশের মুদ্রাকে দুর্বল বা শক্তিশালী করে থাকে। কোন কোন ফান্ডামেন্টাল নিউজের স্থায়িত্ব ঘণ্টা থেকে একদিন কার্যকর থাকে। আর কোন নিউজ মাসের পর মাসও তাতে প্রভাব ফেলতে পারে।
কিন্তু ফান্ডামেন্টাল নিউজের কারণে একদিনেই মার্কেট কিন্তু আপ বা ডাউন হয়ে যায়না। অনেক সময় দেখা গেল একটি নিউজের ইমপ্যাক্ট ২-৩ দিন পর থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী চলতেছে। এই যে মার্কেট আপ বা ডাউনে যাচ্ছে এটা কিন্তু টেকনিক্যালিই যায়। মুভমেন্টটা হচ্ছে ফান্ডামেন্টালী কিন্তু সেটা টেকনিক্যাল ওয়েতেই যাবে। তাই যারা এক্সপার্ট এবং সফল ট্রেডার তারা কিন্তু ফান্ডামেন্টাল নিউজের সাথে সাথে টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলোও কিন্তু মেনে চলেন। মার্কেটে যখন একটা ট্রেন্ড শুরু হয় তখন সেটা চলতেই থাকে। একসময় ট্রেন্ডটা দুর্বল হয়ে এবার রিভার্সাল মুভ শুরু করে।
একজন সফল ট্রেডার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই মার্কেট ট্রেন্ড বুঝতে হবে। কারণ ট্রেন্ড এর বিপরীতে আপনি কখনো টিকে থাকতে পারবেন না। ট্রেন্ডের সাথেই আপনাকে থাকতে হবে।
ট্রেন্ড বুলিশ (উঠতি ট্রেন্ড, আপট্রেন্ড) অথবা বিয়ারিশ (পড়ন্ত ট্রেন্ড, ডাউনট্রেন্ড) হতে পারে। কারেন্সি পেয়ার যখন পূর্বের হাইয়ের ওপরে যায়, তখন একটি নতুন হাই ফর্ম করে। প্রাইস যখন পূর্বের সর্বনিম্নের নিচে যায়, তখন একটি লোয়ার লো ফর্ম করে। হায়ার হাই এবং হায়ার লো এর মানে হচ্ছে এখন আপট্রেন্ড চলছে। লোয়ার হাই এবং লোয়ার লো মানে হচ্ছে ডাউনট্রেন্ড চলছে।

ট্রেন্ড হচ্ছে মার্কেটে কোন অ্যাসেটের সর্বজনীন মুভমেন্ট যেদিকে প্রাইস যায়। আপনি চার্টে দেখতে পাবেন যে, প্রাইস কখনোই সোজা লাইনে মুভ করে না, সেগুলো তৈরি হয় কয়েকটি হাই এবং লো দিয়ে। তিন ধরনের ট্রেন্ড রয়েছেঃ
১. আপট্রেন্ড
২. ডাউনট্রেন্ড
৩. সাইডওয়ে ট্রেন্ড
মার্কেট এর ঊর্ধ্বমুখী চলাটাকে Uptrend বলে। মার্কেট নি¤œমুখী চলাটাকে ডাউনট্রেন্ড বলে। আর মার্কেট একটা নির্দিষ্ট জায়গায় রেঞ্জ করলে সেটাকে সাইডওয়ে ট্রেন্ড বলে।
* আপট্রেন্ড (বুলিশ ট্রেন্ড): এটা গঠিত হয় কয়েকটি হায়ার হাই এবং হায়ার লো দিয়ে (প্রাইস ক্রমাগত উপরে উঠতে থাকে)। এটা বলা যেতে পারে যে আপট্রেন্ড চলছে যদি কোন পরিষ্কার সাপোর্ট লাইন থাকে, যাতে কমপক্ষে দুটি লো কানেক্ট হয় এবং নিচের দিকে প্রাইস সীমাবদ্ধ থাকে। এই লাইনকে ভাঙলে তা ট্রেন্ডে দুর্বলতার অথবা রিভার্সালের সংকেত দেয়।

* ডাউনট্রেন্ড (বিয়ারিশ ট্রেন্ড): এটা গঠিত হয় কয়েকটি লোয়ার লো এবং লোয়ার হাই দিয়ে (প্রাইস ক্রমাগত নিচে নামতে থাকে) এটা বলা যেতে পারে যে ডাউনট্রেন্ড চলছে যদি কোন পরিষ্কার রেজিস্ট্যান্স লাইন থাকে, যাতে কমপক্ষে দুটি হাই কানেক্ট হয় এবং উপরের দিকের প্রাইস সীমাবদ্ধ থাকে। এই লাইনকে ভাঙলে তা ট্রেন্ডে দুর্বলতার অথবা রিভার্সালের সংকেত দেয়।

* সাইডওয়ে (ফ্ল্যাট, সমান্তরাল) ট্রেন্ড: এখানে কোনদিকেই ভালোভাবে-নির্ধারিত কোন ট্রেন্ড থাকে না। অর্থাৎ এটা আসলে কোন ট্রেন্ড না। মার্কেট একটা নির্দিষ্ট পিপের মধ্যে ঘুরাঘুরি করলেই সেটা সাইডওয়ে মার্কেট বলে। এটা স্কাল্পারদের প্রচুর প্রফিট করতে সাহায্য করে।

দৈর্ঘে্যর দিক দিয়ে, ট্রেন্ডকে নিম্নোক্ত শ্রেণিবদ্ধ করা যায়ঃ
* লং-টার্ম (৬ মাস- ২.৫ বছর): মেজর ট্রেন্ড যা সাপ্তাহিক অথবা মাসিক চার্টে চিহ্নিত করা যায়। এটি কয়েকটি মিডিয়াম-টার্ম এবং শর্ট-টার্ম ট্রেন্ডের সমন্বয়ে গঠিত, যা প্রায়ই মেজর ট্রেন্ডের বিপরীত ডায়রেকশনে মুভ করে।
* মিডিয়াম-টার্ম: (১ সপ্তাহ- কয়েক মাস) যা দৈনিক এবং ৪ ঘণ্টার চার্টে ভালো দেখা যায়।
* শর্ট-টার্ম: (এক সপ্তাহের কম) যা ঘণ্টার এবং মিনিটের চার্টে ভালো দেখা যায়।

রেঞ্জ

রেঞ্জে ট্রেডের সময়, ট্রেডাররা এই ধারনার ওপর ট্রেড করে যে প্রাইস নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে একটি সমান্তরাল সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলের মধ্যে একাধিকবার মুভ করবে। এটা ধরে নেয়া হয় যে এক্সচেঞ্জ রেট যেখানেই যাক না কেন, তা মধ্যবর্তী স্থানে ফিরে আসবে। ট্রেডারের লক্ষ্য থাকে যে এই মধ্যবর্তী সীমার মধ্যে প্রাইসের ওঠানামা দিয়ে লাভ করে নেয়া।

রেঞ্জ ট্রেডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শঃ
* লিভারেজের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।
* মিনি এবং মাইক্রো লট বড় স্টপ বসাতে সহায়তা করে।
* স্কেলিং ইন এবং স্কেলিং আউট এখানে ব্যবহার করবেন না।
* রিস্ক/রিওয়ার্ড রেশিও ১:১ রাখার চেষ্টা করবেন।
* আস্তে আস্তে স্টপ লসকে ব্রেকইভেনে নেবেন।

Language »