Home / Currency Pair, Pip & Lot

Currency Pair, Pip & Lot

⇒ কারেন্সি পেয়ার॥ মেজর এবং ক্রস

পিপ এবং লট কী?

 

কারেন্সি পেয়ার॥ মেজর এবং ক্রস

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে সব মুদ্রাগুলি কোট করা হয় জোড়ায়, একের বিপরীতে আর এক। তাদের নামগুলি তিন অক্ষরের দেওয়া হয় যাদের ISO কোড বলা হয়, যেখানে প্রথম দুটি অক্ষর দেশ ইঙ্গিত করে এবং তৃতীয় অক্ষরটি মুদ্রার নাম ইঙ্গিত করে।সাধারণত তাদের কেমনভাবে ট্রেড করা হয় তার উপর নির্ভর করে মুদ্রাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
* সাধারণত যাদের সবচেয়ে বেশি ট্রেড করা হয় তাদের প্রধান (মেজরস) বলা হয় এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত হয় মার্কিন ডলার, ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, জাপানি ইয়েন, কানাডীয় ডলার, সুইস ফ্রাঁ, অস্ট্রেলীয় ডলার এবং নিউজিল্যান্ড ডলার। প্রধান জোড়াতে মার্কিন ডলারের সাথে উপরের তালিকার একটি মুদ্রা থাকতে পারে, যেমন, EURUSD, USDJPY, USDCHF.
* ক্রস জোড়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রধান মুদ্রা থাকে, যার মধ্যে মার্কিন ডলার থাকে না যেমন EURGBP, EURCHF, EURJPY, GBPCAD, GBPAUD এবং CHFJPY.
* এক্সোটিক (বিরল) জোড়াতে একটি প্রধান মুদ্রার সাথে কম ট্রেড করা মুদ্রা থাকে যেমন EURTRY, USDSEK, USDDKK, USDHDK, USDSDG| এক্সোটিক সাধারণত কম লিকুইড হয় এবং তার স্প্রেডও কম টাইট থাকে।
*ফরেক্স মার্কেটে কারেন্সি সর্বদা জোড়ায় জোড়ায় ট্রেড করা হয়। কোন কারেন্সির তুলনামূলক ভ্যালু পেতে আপনার আরেকটি কারেন্সির প্রয়োজন হবে। যখন আপনি কোন কারেন্সি বাই করেন, তখন আপনি অটোমেটিক অন্য কারেন্সি সেল করেন।
ফরেক্সে কারেন্সি পেয়ারকে সংক্ষিপ্ত নামে ডাকা হয়। উদাহরণস্বরূপ, EUR/USD মানে হচ্ছে ইউরো বনাম ইউএস ডলার, এবং USD/JPY মানে হচ্ছে ইউস ডলার বনাম জাপানী ইয়েন। আপনি EUR/USD বাই করলে, তাহলে আপনি ইউরো বাই করছেন এবং ডলার সেল করছেন। আপনি EUR/USD সেল করলে, আপনি ইউরো সেল করছেন এবং ডলার বাই করছেন।
কোন পেয়ারে প্রথম কারেন্সিকে বলা হয় বেস কারেন্সি, আর দ্বিতীয় কারেন্সিকে বলা হয় কোট অথবা কাউন্টার কারেন্সি। বেস কারেন্সির প্রাইস সর্বদা কোট কারেন্সির ইউনিট ইউনিটের ভিত্তিতে গণনা করা হয়।
যেমন, EUR/USD এর এক্সচেঞ্জ রেট ধরুন ১.১০০০। এর মানে ১ ইউরোর মূল্য হচ্ছে ১.১০০০ ইউএস ডলার (এক ডলার ১০ সেন্ট)।
কারেন্সি পেয়ারসমূহকে সাধারণত মেজর, ক্রস এবং এক্সটিক পেয়ারে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। সকল মেজর পেয়ারে ইউএস ডলার থাকে এবং তা ট্রেডারদের মাঝে অনেক জনপ্রিয়: EUR/USD, GBP/USD, USD/JPY, USD/CHF, AUD/USD ইত্যাদি।
ক্রস পেয়ারে দুইটি জনপ্রিয় কারেন্সি থাকে, কিন্তু তার মধ্যে ইউএস ডলার থাকে না। জনপ্রিয় ক্রসের মধ্যে রয়েছে ইউরো, ইয়েন এবং ব্রিটিশ পাউন্ড: EUR/GBP, EUR/JPY, GBP/JPY, EUR/AUD ইত্যাদি।
এক্সটিক কারেন্সি পেয়ারে রয়েছে একটি মেজর কারেন্সি এবং আরেকটি কারেন্সি, যা উন্নয়নশীল (ব্রাজিল, মেক্সিকো, ভারত ইত্যাদি।) অথবা ছোট (সুইডেন, নরওয়ে ইত্যাদি।) অর্থনীতির কারেন্সি। ফরেক্সে এক্সটিক্স কারেন্সি পেয়ার খুব কম ট্রেড করা হয় এবং তাদের ট্রেডের শর্তাবলী কম আকর্ষণীয়।

পিপ এবং লট কী?

ট্রেডারদের কথাবার্তা শুনে আপনি হয়তো পিপ এবং লট শব্দগুলো শুনেছেন। ফরেক্স মার্কেটে ট্রেডের পূর্বে আপনাকে এই অপরিহার্য দুইটি জিনিস সম্পর্কে জানতে হবে। এগুলো ছাড়া আপনি নিজের পজিশন সাইজ এবং লাভ ও লস সঠিকভাবে গণনা করতে পারবেন না। তাই, আপনার পকেট খালি হওয়ার আগে এগুলো সম্পর্কে জেনে নেন।
ফরেক্স মার্কেটে কারেন্সির ভ্যালু পিপ হিসেবে ধরা হয়। পিপ হচ্ছে “পার্সেন্টেজ ইন পয়েন্ট” এর ছোট নাম। এটা হচ্ছে এক্সচেঞ্জ রেটের সবচেয়ে ছোট সংখ্যাটি। পিপ হচ্ছে সবচেয়ে ছোট সংখ্যা যার দ্বারা কারেন্সি কোটে পরিবর্তন আসে। এটি হচ্ছে প্রাইস/কোটেশনে সর্বশেষ ডেসিমল। যেমন, EUR/USD এর ক্ষেত্রে পিপ হচ্ছে চতুর্থ ডেসিমল- $০.০০০১; যেসকল কারেন্সি পেয়ারে জাপানী ইয়েন থাকে যেমন USD/JPY তার জন্য হচ্ছে দ্বিতীয় ডেসিমল ($০.০১)।EUR/USD যদি ১.০৮০০ থেকে ১.০৮০৫ এ যায়, তাহলে এর মানে হবে তাতে ৫ পিপ পরিবর্তন হয়েছে। USD/JPY যদি ১২০.০০ থেকে ১২০.০৩ তে যায়, তাহলে এর মানে হবে তাতে ৩ পিপ পরিবর্তন হয়েছে।
এক্সচেঞ্জ রেট সাধারণত ৫ সংখ্যার হয়ে থাকে। কোটের মধ্যে প্রথম তিনটি ডিজিটকে বিগ ফিগার বলা হয়ে থাকে।
লক্ষ্য করবেন যে, ব্রোকাররা ৫ম এবং ৩য় ডেসিমল সংখ্যাও গণনায় ধরে। সেগুলোকে “পিপেট” বলা হয়ে থাকে এবং তা স্প্রেড গণনাকে আরও সুবিধাজনক করে তোলে।
লাভ গণনা করা
আপনি যদি EUR/USD তে ১.০৫০০-তে লং বাই করে থাকেন এবং প্রাইস উপরে উঠে ১.০৫৫০ তে পৌঁছায়, এর মানে হচ্ছে আপনি ৫০ পিপ লাভ করেছেন। অভিনন্দন! আপনি কিছু আয় করেছেন। ঠিক আছে, এখন আপনার প্রশ্ন জাগতে পারে, যে কতো আয় করেছেন? ভালো প্রশ্ন! আপনার লাভ গণনা করতে সহায়তা করছি।
এরজন্য খুব সহজ একটি সূত্র রয়েছেঃ ডেসিমল ফর্মে ১ পিপ / ইউএস ডলারে বর্তমান এক্সচেঞ্জ রেটে কোট কারেন্সি = প্রতি পিপের ভ্যালু। আমাদের ক্ষেত্রেঃ ০.০০০১/ ১.০৫৫০ = ০.০০০০৯৪৭৮ ইউএসডি (রাউন্ড ফিগার) এর অর্থ হচ্ছে আপনার লাভজনক ট্রেডের জন্য প্রতি পিপের ওপর আপনি এই পরিমাণ পাবেন। আপনি হয়তো অনুধাবন করেছেন যে, এটা তেমন বেশী অর্থ নয়। এর কারণ হচ্ছে এটা হচ্ছে প্রতি ইউনিটে পিপের ভ্যালু, কিন্তু ট্রেডাররা বড় ধরনের ইউনিট নিয়ে কাজ করে- যাকে লট বলা হয়ে থাকে।
লট কি?
লট হচ্ছে কোন অর্ডারে নির্দিষ্ট সংখ্যার ইউনিট।

আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে সবচেয়ে ছোট লট হচ্ছে মাইক্রো লট (বেস কারেন্সির ১,০০০ ইউনিট, একে প্রায়ই 1k বলা হয়ে থাকে)। আপনি ১,০০০ বা ২,০০০ বা ১,২৪,০০০ ইউনিট ট্রেড করতে পারেন যতক্ষণ তা 1k দিয়ে গুণ করা যায়। প্রতি 1k কে লট হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।
প্রতিটি কারেন্সি পেয়ারের জন্য ১ পিপের ভ্যালু ভিন্ন হয়ে থাকে।
তাই, আপনি যদি আগের উদাহরণটির দিকে দেখেন এবং EUR/USD এর লং ট্রেডে যদি এক স্ট্যান্ডার্ড লট ব্যাবহার করেন, তাহলে আপনি ১০০,০০০ ইউনিট বাই করছেন। এক্ষেত্রে প্রাইস যদি আপনার পক্ষে মুভ করে তাহলে আপনার লাভ ১ পিপের জন্য ০.০০০০৯৪৭৮ ইউএসডি হবে না, বরং ০.০০০০৯৪৭৮ ইউএসডি × (গুণ) ১০০,০০০ হবে যা প্রায় ৯.৪৭৮৭ ইউএসডির সমান। এছাড়াও আপনি মিনি (১০,০০০), অথবা মাইক্রো (১,০০০) লট দিয়ে ট্রেড ওপেন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ১ পিপের জন্য আপনার লাভ হবে ০.৯৪৭৮৬ ইউএসডি এবং ০.০৯৪৭৮ ইউএসডি।
একটি কথা মনে রাখবেন যে ইউএস ডলার প্রায় অনেক কারেন্সির কোট কারেন্সি (EUR/USD, GBP/USD ইত্যাদি)। এর মানে কোট কারেন্সির ইউএসডির এক্সচেঞ্জ রেট সমান হচ্ছে ১। এ ধরনের পেয়ারের ক্ষেত্রে ১ পিপ সর্বদা $১০ হবে যখন তা ১০০,০০০-ইউনিট কন্ট্রাকে (১ স্ট্যান্ডার্ড লটে) ট্রেড করা হবেঃ
১০০,০০০ × ০.০০০১ / ১ = $১০ ((EUR/USD এর পিপ ভ্যালু)
যে সকল পেয়ারে ইউএস ডলার বেস কারেন্সি (USD/CHF, USD/CAD), তার পিপ ভ্যালু এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর নির্ভর করবেঃ
১০০,০০০ × ০.০০০১ / ১.০১৯৫ = $৯.৮ (USD/CHF এর পিপ ভ্যালু)
যেসকল পেয়ারে জাপানী ইয়েন থাকবে তার পিপ ভ্যালু নিম্নোক্ত উপায়ে গণনা করা হবেঃ
১০০,০০০ × ০.০১ / ১২০.৬৫ = $৮.২৮ (USD/JPY এর পিপ ভ্যালু)।

Language »