Home / Fundamental Analysis

Fundamental Analysis

ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস

ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস হল কীভাবে এটি দেশের অর্থনীতি তার মুদ্রার হারকে প্রভাবিত করবে তার বিশ্লেষণ, যা প্রধানত অন্তর্ভুক্ত করবে পরিসংখ্যানগত তথ্য ও অর্থনৈতিক সূচকের ব্যাখ্যা। দৈনিক প্রকাশিত একাধিক অর্থনৈতিক খবর ও রিপোর্ট, কিছুটা হলেও বুঝতে সাহায্য করে একটি মুদ্রার দাম বাড়বে নাকি কমবে ভবিষ্যতে যখন বর্তমান ট্রেন্ড-এর উল্টো দিকে যাওয়া প্রত্যাশিত হবে।
যে সময় ও তারিখে একটি নির্দিষ্ট খবর বা সূচক প্রকাশিত হবে তা আগে থেকে ঠিক করা থাকে এবং সেটি দেখা যাবে অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে। এটি হল প্রধান টুল যা বিশ্লেষকেরা ব্যবহার করে যাতে নির্ধারণ করা যায় খবর কী প্রকারের প্রভাব বিস্তার করবে এবং সেই অনুযায়ী অর্থনৈতিকেরা যে ডেটা ব্যবহার করবে তার ভবিষ্যদ্বাণী করতে।
ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস হচ্ছে মার্কেটের ভিত্তিস্বরূপ ফ্যাক্টরসমূহের অধ্যয়ন যা মার্কেটে চালিকা হিসেবে কাজ করে। এরকম হাজার হাজার ফ্যাক্টর রয়েছে যা এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর প্রভাব ফেলে। আর এগুলো এতোবেশী যে, সেগুলোর সবগুলো অ্যানালাইজ করতে গেলে প্রথম অবস্থায় আপনার মাথা ঘুরেও যেতে পারে । যাই হোক ফান্ডামেন্ডাল অ্যানালিসিসকে সহজ করার জন্য, আমরা সেগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি।

মৌলিক বিষয়গুলি
১. ইকনোমিক ইনডিকেটর
ইকনোমিক ইনডিকেটর হচ্ছে প্রাইভেট এবং সরাসরি সংস্থার অর্থনৈতিক এবং ফাইনান্স্যিয়াল ডাটা প্রকাশনার টুকরো টুকরো খবর। এসকল স্ট্যাস্টিকস আমাদের মার্কেটের চালিকা দেখতে এবং তার সামান্য পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়া দেখতে সহায়তা করে। ইকনোমিক রিলিজে সঠিকভাবে সাড়া দিতে প্রথমে আপনাকে স্ট্যাস্টিক্যাল রিপোর্ট এবং কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেটের সাথে সম্পর্ক কি তা বুঝতে হবে। এখন আমরা সবচেয়ে-প্রভাবশালী ইকনোমিক ইনডিকেটরের সাথে পরিচিত হবো এবং কারেন্সির ওপর তার প্রভাব ব্যাখ্যা করবো।
* আউটপুট ইনডিকেটরঃ জিডিপি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন, রিটেইল সেলস। প্রকাশিত ডাটাতে কোন ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেলে তা এর ইঙ্গিত করে যে অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে। প্রকাশনা যদি শক্তিশালী হয়ে থাকে, তাহলে কারেন্সির ভ্যালু বৃদ্ধির আশা করতে পারেন।
* সেন্টিমেন্ট ইনডিকেটরঃ বিজনেস এন্ড কঞ্জুমার সেন্টিমেন্ট। এই গ্রুপের ইনডিকেটর ভোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ব্যারোমিটার হিসেবে কাজ করে। তারা যতোবেশী খরচ/বিনিয়োগ করবে, জাতীয় অর্থনীতি এবং কারেন্সি ততো শক্তিশালী হবে।
* লেবার মার্কেট ইনডিকেটরঃ আনএমপ্লয়মেন্ট রেট, পেরোল, এমপ্লয়মেন্ট/আনএমপ্লয়মেন্ট চেঞ্জ, আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস। এমপ্লয়মেন্ট যতো বেশী হবে, জাতীয় কারেন্সির জন্য তা ততো ভালো (আনএমপ্লয়মেন্টের বিপরীত)।
* হাউজিং মার্কেট ইনডিকেটরঃ বিল্ডিং পারমিট/কনসেন্ট/ অ্যাপ্রুভালস, হাউজিং স্টার্টস, নিউ/ এক্সিস্টিং / পেন্ডিং হোম সেলস। হাউজিং মার্কেটে যদি অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির কোন সংকেত পাওয়া যায়, তার মানে হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি ভালো করছে। এতে জাতীয় কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেট বৃদ্ধি পায়।
* ইনফ্লেশনঃ সিপিআই, পিপিআই, ডব্লিউপিআই, আরপিআই। ইনফ্লেশন বৃদ্ধি জাতীয় কারেন্সির জন্য নেতিবাচক, আর কম ইনফ্লেশন হচ্ছে ভালো। শর্ট-টার্মে, সিপিআই এবং অন্যান্য ইনফ্লেশন ইনডেক্স কারেন্সির ওপর বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। ইনফ্লেশনের মাত্রা যদি লক্ষণীয় হারে বেড়ে যায় তাহলে তা সেন্ট্রাল ব্যাংককে ইন্টেরেস্ট রেট বাড়াতে বাধ্য করে। এর কারণে কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেট বেড়ে যেতে পারে।
* ট্রেড ব্যালেন্স: দেশের মোট রপ্তানি বিয়োগ মোট আমদানীর পরিমাণ; >০ মানে সারপ্লাস, <০ মানে ঘাটতি। দেশের লেনদেন যখন বেশী থাকে, তখন বিদেশী ক্রেতাদের কাছে সেই কারেন্সির দাম বৃদ্ধি পায়, তথায় জাতীয় কারেন্সির মূল্যায়ন হয়। বিপরীতে, লেনদেনে ঘাটতি দেখা দিলে তার কারণে দেশের কারেন্সির ভ্যালু কমে।
* কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স: এতে কোন দেশ এবং তাদের ট্রেডিং পার্টনারদের পণ্য, সেবা, ইন্টারেস্ট এবং ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত সকল লেনদেনের ব্যালেন্স দেখায়; >০ মানে সারপ্লাস, <০ মানে ঘাটতি। ঘাটতির মানে হচ্ছে দেশটি আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশী করছে, এবং ঘাটতি কমাতে দেশটি বিদেশী থেকে অর্থ ধার করছে। জাতীয় কারেন্সির ওপর এর প্রভাব নেগেটিভ। সারপ্লাস, অন্যদিকে, কারেন্সির ওপর পজিটিভ প্রভাব ফেলে।

২. সেন্ট্রাল ব্যাংকের মনেটারি পলিসি
* ইন্টারেস্ট রেট: সকল মেজর ব্যাংক তার মূল রিফাইনান্সিং রেট নির্ধারিত করে দেয়। এখানে দুই ধরনের পলিসি রয়েছেঃ ইজিং (easing) (অর্থনীতির যদি সহায়তার প্রয়োজন হয় তাহলে ইন্টারেস্ট রেট কমানো। কারেন্সির ওপর এর প্রভাব নেগেটিভ) এবং কষানো (tightening) (ইন্টারেস্ট রেট বাড়ানো যাতে বাড়তি ইনফ্লেশন রেট কমে আসে; এর প্রভাব কারেন্সির ওপর পজিটিভ)।
* বন্ড পারচেস: মাঝে মাঝে সেন্ট্রাল ব্যাংক তাদের প্রচুর পরিমাণে সরকারী বন্ড ক্রয়ের আশ্রয় নেয় যাতে তারা অর্থ সঞ্চালন বাড়াতে পারে; একাজ করে তারা ধারকে সস্তা এবং অর্থনীতির উন্নয়ন বৃদ্ধি করে। এসকল অস্বাভাবিক মনেটারি কার্যকলাপ কারেন্সির ভ্যালু কমিয়ে ফেলে। সেন্ট্রাল ব্যাংকের বন্ড পারচেস যা মানি সাপ্লাই বাড়িয়ে দেয় তাকে কোয়ান্টিটিভ ইজিং কিউই নামে চেনা হয়ে থাকে।

৩. গভর্মেন্টস ফিসক্যাল হেলথ বাজেট: ব্যালেন্স এন্ড ডেবট। দেশ যদি অতিরিক্ত ঋণে জর্জরিত হয়, তাহলে তা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়, কারণ সরকারী ঋণ ইনফ্লেশন বৃদ্ধি করে। এর সাথে, বেশী বড় ঋণ বিদেশীদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে যদি তারা এই আশংকা করে যে দেশটি খেলাপির দিকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশের কারেন্সির চাহিদা কমবে এবং তার এক্সচেঞ্জ রেট পড়ে যাবে।

৪. নিউজ ফ্লো
* রাজনৈতিক সামাজিক এবং অন্যান্য খবর।
* আইএমএফ, OECR, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থনৈতিক ফোরকাস্ট।
* মুডিস, ফিচ, এসএন্ডপি এবং অন্যান্য সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেডিট রেটিঙে পরিবর্তন।
বিদেশী বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশ খুঁজে বেড়ায়। এজন্য রাজনৈতিক আন্দোলন এবং অস্থিরতার খবরাখবর দেশে বিনিয়োগে অনাগ্রহী করে তোলে। এর ফলে, বিদেশী বিনিয়োগ উঠে যাওয়াতে দেশের কারেন্সির মূল্য কমে যায়। মাঝে মাঝে রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশগুলোও সামাজিক বিশৃঙ্খলা, সরকারি রদবদল এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক পরিবর্তন জাতীয় সমস্যার সম্মুখীন হয়। এসকল ইভেন্ট কারেন্সির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন অথবা গণভোটের অপ্রত্যাশিত ফলাফল বড় ধরনের ভলাটিলিটি তৈরি করতে পারে (মনে আছে ট্রাম্পের বিজয় অথবা ইউকের “বেক্সিট” ভোটের ফলাফলের কথা। দেশের নেতাদের রাজনৈতিক বিবৃতি, সেন্ট্রাল ব্যাংকের পরিচালকের পাবলিক এঙ্গেজমেন্ট কারেন্সির প্রাইসে ওঠানামা করাতে পারে।
বিভিন্ন ধরনের খবরের কারণেও কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেটে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আমরা আইএমএফ, OECR, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ইকনোমিক ফোরকাস্ট, মুডিস, এসএন্ডপি, এবং অন্যান্য সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিঙে পরিবর্তনের কথা বলছি।
অবশেষে, একেবারে অপ্রত্যাশিত কিছু খবর যেমন ভূমিকম্প এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ সকল ইভেন্ট অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক এবং এক্সচেঞ্জ রেটের জন্যও। কিন্তু এর সম্পর্ক সর্বদা এতো সোজা নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে জাপানে ভূমিকম্পের কারণে জাপানী ইয়েন শক্তিশালী হয়েছিলোঃ এর কারণ ছিলো বিনিয়োগকারীরা ইয়েনকে সুরক্ষিত, বিশ্বস্ত কারেন্সি হিসেবে দেখছিলো এবং তখন তা বেড়েছিল যখন মার্কেটে ঝুঁকি অতিমাত্রার ছিলো।

সেন্ট্রাল ব্যাংকঃ পলিসি এবং তার প্রভাবের শিক্ষা
ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড করাটা পানির মতো সোজা নয়। এর জন্য প্রচুর পরিমাণে সক্রিয়তা এবং জ্ঞানের প্রয়োজন। অন্যান্য প্রফেশনালদের মতো একজন ট্রেডারকেও এই “শিল্প” সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে হবে। তাই, মুখ্য সেন্ট্রাল ব্যাংকসমূহের মনেটারি পলিসি সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান রাখা ভালো হবে।
সেন্ট্রাল ব্যাংকের পলিসি সম্পর্কে ভালো ধারনা পেতে, আপনার তাদের মূল উদ্দেশ্য, সাধারণ কার্যকলাপ, সময়তালিকা এবং সভায় আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। তার সাথে, এর ফলে প্রভাবিত কারেন্সির ভবিষ্যতের ভ্যালুর ওপর এর কি প্রভাব পড়তে পারে আপনাকে তাও বুঝতে সক্ষম হতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সুদের হার
যেহেতু একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অধিকাংশ সময়ে দায়িত্ব নিয়ে থাকে একটি দেশের আর্থিক বিষয়ের, তার যে নীতি সে চালাচ্ছে তার প্রভাব পড়ে মুদ্রার হারের উপর। উদাহরণস্বরূপ, তার মান বাড়াতে এটি সেই মুদ্রা কিনতে শুরু করতে পারে এবং সেটিকে মজুদ করতে পারে। হার কমাতে, মজুদ মুদ্রা বিক্রি করতে পারে বাজারে।
যখন ভোক্তার খরচের বৃদ্ধি প্রয়োজন হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিকে ঋণ দেয় তার উপর সুদের হার কমাতে পারে। যদি এটি চায় মুদ্রাস্ফীতি ধীর করে দিতে, তখন সুদের হার বাড়ানো হয় যাতে খরচ করার প্রবণতা কমে।
বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি, কোন বিষয়ে তারা বেশি চিন্তিত, তার উপর নির্ভর করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিকে বলা যেতে পারে “হকিশ” বা “ডভিশ”। প্রথমটির ক্ষেত্রে সাধারণত সুদের হার বৃদ্ধি করা হয়, উল্টোদিকে দ্বিতীয়টিতে সাধারণত সুদের হার কমানো হয়ে থাকে।

Language »