Home / Article / Binany / Binary Option, জুয়া, অনলাইন প্রতারণা এবং করোনা ভাইরাস নিয়ে কিছু আলোচনা

Binany / Binary Option, জুয়া, অনলাইন প্রতারণা এবং করোনা ভাইরাস নিয়ে কিছু আলোচনা

বর্তমানে আমরা স্টে হোম অবস্থায় এক দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছি। সারা পৃথিবীতে মহামারী করোনা ভাইরাস সবকিছুই যেনো গ্রাস করে চলেছে এবং সবার প্লানগুলি এলোমেলো করে দিয়েছে। আমরা মুসলিমরা মসজিদে ইবাদত করতে পারছি না এই বছরের রমজান মাসেও। আমার মনে হয়, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এক সতর্কবার্তা স্বরূপ বিপদ ও গজব। বিজ্ঞানীদের মতে, এটা চীনের উহান শহরের বাদুড় খেকো মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মতে, এই ভাইরাস বাদুড়ের শরীরে সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু মানুষের নেই। তাই আল্লাহর বাণী- “খুলিক্বল ইনছানা দ্বয়ীফা”, অর্থাৎ আমি মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করেছি। আর আল্লাহ যে মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করেছেন তারই নমুনা দেখতে পাই আমরা এই করোনা ভাইরাসে। অন্যান্য রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার হলেও এখনো এ রোগের প্রতিষেধক ও ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি বিধায় দিন দিন পৃথিবীব্যাপী এই রোগের প্রার্দুভাব ছড়িয়েই পড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে এতো বড় দুর্যোগ আর আসেনি। বাঘা বাঘা দেশ এর সাথে পেরে উঠতে পারছে না। সারা পৃথিবীর অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত, কারণ দেশে দেশে লকডাউন চলছে; যেটা আমরা এর আগে আর কখনো দেখিনি। কিয়ামতের আলামতে যা বর্ণনা করা আছে তাতে হয়তো করোনা ভাইরাস-এর উল্লেখ নেই কিন্তু কিয়ামতের সেই সমস্ত আলামত আরো কত ভয়াবহ হবে তার কিছুটা আন্দাজ করা যায় এই মহামারীর তান্ডব দেখে। আজ ২৯/৪/২০২০ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস এর চিত্র নিম্নরূপ-

আর আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন কোনো মহামারী ও গজব হয় তা মূলত মানুষদের কৃতকর্মের জন্যই বা তাদের কৃতকর্মের দ্বারাই তৈরি, এটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। মানুষ এই পৃথিবীতে এমন কোনো ঘৃণ্য কর্ম নেই যা তারা করে না বা করছে না। এগুলির অনেক কিছুই আপনাদের জানা আছে। আমি শুধু আজকে আমার শিরোনাম বিষয়ে কিছু আলোকপাত করবো ইনশাআল্লাহ।
মানুষ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে কতই না বিচিত্রভাবে ও উপায়ে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বর্তমানে এই গ্লোবাল ভিলেজের অনলাইন জগতও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে প্রতারকরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমার আপনার কষ্টে অর্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বসে আছে। সত্যি কথা বলতে কী, কেউ কাউকে এমনিতেই কিছু দেওয়ার জন্য এসব খুলে বসে নাই। কত রকম পন্থায় বুদ্ধি খাটিয়ে আপনার পকেটের টাকা আপনি নিজের ইচ্ছায় তাকে দিবেন, সেই জন্য ওত পেতে আছে। তবে কাজের বিনিময়ে অনলাইন জগতে আপনাকে তারা কিছু আর্নিং দিবে এরকম অনেক ওয়েবসাইট ও পন্থা আছে বিধায় মানুষ ইন্টারনেটের বদৌলতে ঘরে বসে থেকেই আয় করতে পারছে।
আমার কিছু ক্লায়েন্ট অনলাইনের মাধ্যমে ইউএসডি বিক্রয় ও এক্সচেঞ্জ করতে গিয়ে প্রতারণার স্বীকার হয়েছে। এর উপর একটি ভিডিও আমার ইউটিউব সাইটে দেওয়া হয়েছে, প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে অবশ্যই আপনারা এই ভিডিওটি দেখবেন। এখন শিরোনামের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক।
বাইনারী শব্দটি আসলে যারা প্রযুক্তির সাথে জড়িত তারা কমবেশী সবাই জানেন ও বুঝেন। ৪ ধরনের বা প্রকারের সংখ্যা দিয়ে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়। তার মধ্যে ০ ও ১ কে বাইনারি সংখ্যা হিসেবে ধরা হয়। ডিকশনারীতে binary /adjective/ দ্বৈত; যুগ্ম; দুইভাগবিশিষ্ট; দুই চলবিশিষ্ট; দুই সংখ্যাবিশিষ্ট; দুই উপাদানে গঠিত; দ্বিমূল; SYNONYM- double; হিসেবে উল্লেখ আছে। আমরা এখানে ডাবল বা দ্বিগুণ অর্থই গ্রহণ করতে পারি।
মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো, কীভাবে অল্প পরিশ্রমে বেশী আয় করা যায় সেই দিকে ঝুঁকে পড়া। বিশেষ করে বাঙালিদের মাঝেই এর প্রবণতা বেশী বলে আমি মনে করি। অনলাইন জগতে বেশীরভাগ ব্যক্তি যেটাতে পরিশ্রম বেশী সেই দিকে ঝুঁকতে চায় না। অনেক ব্যক্তির মধ্যে ধৈর্য একেবারেই নেই বলে আমার মনে হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে যে দেশ প্রযুক্তিতে যত উন্নত, সে দেশ ততই উন্নত দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বিশেষ করে সারা পৃথিবীতে চীন প্রযুক্তিগত উন্নতির দিক থেকে শীর্ষে থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত হলেও এটাকে প্রযুক্তি দিয়ে কীভাবে আয়ত্তে এনেছে তা আপনারা সবাই দেখেছেন। রোবট ছেড়ে দিয়েছে রাস্তায় রাস্তায় করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করতে। যদিও তাদেরকে আমার মিথ্যাবাদী বলেই মনে হয়। তারা এ বিষয়ে সত্যকে লুকিয়েছে, যার কারণে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রতি ক্ষেপেছে এবং এক অঙ্গরাজ্য থেকে চীনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।
অনলাইন জগত থেকে আয় করার হাজারো পন্থা বা পথ রয়েছে। কিন্তু সেজন্য যথোপযুক্ত শিক্ষা ও ধৈর্যে্র প্রয়োজন। অনলাইন জগতের প্রত্যেকটি পেশার কিছু রুলস বা নিয়ম-কানুন রয়েছে, সেগুলিকে মেনে চললেই এ পেশা থেকে আয় করা সম্ভব। ফরেক্সও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি এজন্য এ ওয়েবসাইটে ফরেক্স টিপস্ নামক মেনুতে অসংখ্য টিপস্ প্রদান করছি। কিন্তু কেউই এগুলি মানতে চায় না বিধায় ৯০% লুজারের খাতায় নাম লেখায়।
বর্তমানে অনলাইন জগতে জুয়া খেলার অনেক সাইট রয়েছে। যেগুলির দিকে মানুষের ঝোঁক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে মানুষ এক জায়গায় জটলা করে তাস বা জুয়া খেলতো। এখনও অনেক জায়গায় এটা আছে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। অনেক সময় আইনের লোকজন জুয়া খেলার অপরাধে তাদেরকে গ্রেফতারও করে। কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেটের বদৌলতে ঘরে ঘরে জুয়া খেলা হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই, যদিও মাঝে মাঝে এদের বিরুদ্ধে কিছু একশন নেওয়া হয়। বিভিন্ন খেলা নিয়ে বাজী ধরা হয় ও জুয়া খেলা হয়। ফুটবল, ক্রিকেট খেলা নিয়ে আরো বেশী জুয়া খেলা হচ্ছে। ক্রিকেট খেলার বলে বলে বাজী ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে আইপিএল খেলাতে কত হাজার কোটি টাকা জুয়াড়ীরা আদান-প্রদান করে তার ইয়াত্তা নেই। পত্র-পত্রিকা খুললেই দেখা যায় যে, ছাত্র, রিক্সাওয়ালাসহ কমবেশী অনেকেই এই জুয়া খেলার দিকে ঝুঁকে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এমনকি অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েও এতে বাজী ধরে বা জুয়া খেলে। ১:২-৫ বা তারও বেশী প্রফিট সহজেই পাওয়া যায় বিধায় এর দিকে ঝোঁক বেশী থাকে। বসে থেকে শুধু বাজী ধরলেই যদি কয়েকগুণ টাকা আয় করা যায়, তাহলে এতো কষ্ট করে কাজ-কর্ম করে কী লাভ, এটাই তাদের মন্তব্য। অথচ কুরআনে জুয়া খেলাকে স্পষ্ট হারাম বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আমরা হালাল-হারাম মেনে চলি না। আমাদের কথা হলো, আয় বা টাকা আসলেই হলো, সেটা যেখান থেকে যেভাবে আসে আসুক। বর্তমানে সব খেলা বন্ধ, আর তাই ডলারের চাহিদা কম। এতেই বুঝা যায়, ইন্টারনেটে খেলা নিয়ে কতই না জুয়া হয়!
তদ্রুপ বাইনারি অপশনও জুয়া খেলার অন্তর্ভুক্ত। এখানে সময় নির্দিষ্টের কারণসহ আরো অনেক বিষয় রয়েছে এটা জুয়া হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার। ফরেক্স ট্রেডিং যেমন একটি লাইভ মার্কেট কিন্তু বাইনারি তা নয়। বাইনারি অপশন আসলে ট্রেডের অন্তর্ভূক্ত হয় না কারণ এখানে ক্রয়, বিক্রয় এর কিছু নেই। আপনি একটি নির্দিষ্ট মূল্য নিয়ে বাজি ধরছেন এবং যদি সেটি জিতে যান তাহলে দ্বিগুণ প্রফিট করছেন এবং হেরে গেলে আপনার এন্ট্রির পুরো বিনিয়োগটা লস করছেন। আর তারা আপনার বিনিয়োগ আগেই কেটে নেয়। আর প্রফিট করলে বিনিয়োগ ফেরতসহ প্রফিট দিয়ে দেয়। বাইনারি অপশনকে ফরেক্স-এর ট্রেড সাথে তুলনা করা তো যাবেই না, বরং একে ফরেক্স নামেও আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। বাইনারি টার্মিনালে পুট ও কল বা অন্যকিছু লেখায় অর্ডার দিতে হয় এবং এতে স্টপ-লসও দেওয়া যায় না। বাইনারি অপশন যদি ফরেক্স-ই হতো তাহলে অলিম্প ট্রেড ব্রোকারের বাইনারী অপশন ও ফরেক্স টার্মিনাল ভিন্ন হতো না। যদিও অনেক বাইনারি অপশন ব্রোকারেও ফরেক্স ট্রেড অন্তর্ভুক্ত আছে, কিন্তু কেউ এতে ফরেক্স ট্রেড করে না বরং বাইনারি অপশনেই এন্ট্রি দেয়। খেলাতে যেমন কোন দল উইন হবে সেটা আন্দাজ করে বাজী ধরে উইন হলে কয়েকগুণ প্রফিট পাওয়া যায়, তেমনি বাইনারি অপশনেও আপনার মূলধন দিয়ে যা এন্ট্রি দিবেন (যদি সময় লিমিট ১ মিনিটও থাকে) তারপরে এন্ট্রিটি উইন হলে দ্বিগুণ প্রফিট পাওয়া যায়। যেমন- আপনি যদি ৫,০০০ ইউএসডি ১ মিনিট সময়ের জন্য একটি এন্ট্রি দেন এবং আপনি উইন হন তাহলে আপনাকে ১০,০০০ ইউএসডি দেওয়া হবে। এটা আলাদীনের চেরাগের মতো আর কি! যদিও উইন হওয়া সম্ভবপর নয়। আর এক মিনিটে যদি এতো প্রফিট হয় (৫,০০০ ডলার) তাহলে তো সবাই কোটিপতি হয়ে যেতো। ধরে নিলাম আপনি পেয়েছেন তাহলে এটা কী হলো, হালাল না হারাম। অবশ্যই এটা জুয়া, আর জুয়া সর্বদা হারাম বলেই বিবেচিত।
একজন আমাকে বলেছিলো যে, এটাতেও তো লাভ-লস রয়েছে, তাই এটি হালাল। আমি বলেছিলাম, শুধু লাভ-লস থাকলেই কোনো ব্যবসা বা কোনো কিছু হালাল হয়ে যায় না। তার জন্য অনেক শর্ত রয়েছে, যেগুলি আমি ফরেক্স ট্রেডিং হালাল না হারাম সেই নিবন্ধে আলোচনা করেছি। মোটকথা হলো, বাইনারি বা অপশন এ এন্ট্রি করার জন্য যে সমস্ত ওয়েবসাইট অফার দিয়েছে সেগুলি সবই হারাম বলে আমি মনে করি। শুধু আমি না, পৃথিবীর বড় বড় ইসলামিক স্কলারসগণ বাইনারী অপশনকে হারাম হিসেবে গণ্য করেছেন এবং মত দিয়েছেন।
আর বাইনারি ব্রোকারগুলি ফরেক্স এর মতো চার্ট প্রদান করে সেগুলি মূলত: লাইভ চার্ট নয়, এগুলি বিগত দিন, মাস বা বছরের চার্ট। তাছাড়া চার্টের মতো দেখতে এগুলি ম্যানুয়ালি তৈরি করা। সেই চার্টগুলিকে তারা ব্যবহার করে এবং এন্ট্রির জন্য টাইম নির্দিষ্ট করে দেয়। দেখা যায় যে, লাভের এন্ট্রি শেষ মুহূর্তে লসে ক্লোজ হয়। ফরেক্স, শেয়ার মার্কেটেও চার্ট দেখে ট্রেড করতে হয়, কিন্তু বাইনারি অপশনের সাথে তার রাত-দিন পার্থক্য রয়েছে। ফরেক্সের চার্ট অর্থনীতির সাথে জড়িত। মজার বিষয় হলো যে, ফরেক্স হলো এমন একটি প্রকাশ্য বিষয় যে, কোন সময় নিউজ হবে সেটা আগে থেকেই অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে উল্লেখ থাকে। আর সেই সময়েই ফরেক্স মার্কেট নিউজের প্রভাবে বেশী মুভ হয়। তার মানে, এটি সরাসরি অর্থনীতির সাথে জড়িত। আর বাইনারী অপশন পুরোটাই জুয়া এই জন্যও যে, এটাতে নিউজের কোনো প্রভাব পড়ে না। তার মানে, এটি অর্থনীতির সাথে জড়িত নয়। আমি আগেই বলেছি যে, এটি বিগত সালের চার্ট ও তৈরি বিধায় এতে কোন নিউজের ইফেক্ট হয় না। তাই ব্রোকাররা প্রযুক্তির বদৌলতে ফরেক্স এর বিগত চার্টকে কাজে লাগিয়ে ১ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা, মাস বা দিন বেধে দেয়। এর মধ্যে যতই প্রফিট হোক, এন্ট্রি ক্লোজ করা যায় না। সময় শেষ হয়ে গেলেই শুধুমাত্র ক্লোজ করা যায়। যদিও তারা একধাপ এগিয়ে এখন আবার সময়ের আগেই এন্ট্রি ক্লোজ করার জন্য আরো একটি সিস্টেম বের করে নাম দিয়েছে ‘ডিজিটাল’। কিন্তু বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ওটাও ঐ একই বিষয়ের মধ্যেই অন্তর্ভূক্ত।
আমার জানা মতে, বাইনারিতে মিনিমাম ১০ ইউএসডি ডিপোজিট করে অনেকেই অনেক প্রফিট করেছে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তহবিলসহ সব শেষ হয়ে গেছে। এই বাইনারি ব্রোকারগুলো প্রথমে লোভ দেখায় যে, ১/২ মিনিটে মূলধন দ্বিগুণ করুন। তারপর তারা প্রথমে ডেমো প্র্যাকটিস করার জন্য সুযোগ দেয়। তখন নবীনরা ডেমো প্র্যাকটিস করে এবং এটা তাদের কাছে খুব ইজি বলে মনে হয়। তারপর রিয়েল একাউন্ট এ ডিপোজিট করে। তাছাড়া ব্রোকারগুলো ডিপোজিট ও উইথ্রড্রর কথা এমন সহজভাবে বলে যে, ডিপোজিট করলেই প্রফিট এবং উইথ্রড্রও খুব সহজ। কিন্তু বেশীরভাগ উইথ্রড্রই তারা দেয় না। প্রমাণস্বরূপ একটি ভিডিওর শেষে প্রদানকৃত বাইনানি/ বাইনারি অপশনের ব্যাপারে কিছু মন্তব্য-এর স্ক্রিনশর্ট প্রদান করলাম এটা থেকেও আপনারা বুঝতে পারবেন। আজকাল এই বাইনারি খেলার হিড়িক পড়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে সবার হাতে হাতেই স্মার্ট ফোনের বদৌলতে এখন সবাই এই প্রযুক্তির সহায়তায় জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আবার কিছু কিছু ফরেক্স-এর লুজার ট্রেডারও এই বাইনারি অপশনের দিকে ঝুঁকছে। স্বভাবত হারামের দিকে কম-বেশী সবারই ঝোঁক থাকে। তারা কম সময়ে দুই একটি এন্ট্রিতে প্রফিট করেই লাফালাফি শুরু করে এবং ভাবে যে, ফরেক্সে এন্ট্রি দিয়ে বসে থাকার মতো ধৈর্য্য তাদের নেই। তারা মনে করে, বাইনারি অপশনে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়ে খুব ইজিলি তো প্রফিট করা যায়, তাহলে ফরেক্সে কেন এতো ধৈর্য্য ধরে ট্রেড করে লস করতে হবে? বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানীরা এই বাইনারি ট্রেডের দিকে বেশী ঝুঁকছে। এর উপর প্রচুর ভিডিও আপলোড করা হয়েছে বিধায়, এই সব ভিডিও দেখে অনেকেরই এর উপর আকর্ষণ বেড়েই চলেছে। আর বাইনারি ব্রোকাররা ঝোপ বুঝে কোপ মারছে অর্থাৎ তাদের যে কাঙ্খিত লক্ষ্য, মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া, এতে তারা খুব ভালোভাবেই ফলপ্রসু হচ্ছে। আগেই বলেছি যে, হালাল-হারাম কেউ দেখছে না। পরকালীন আজাবের কোনো ভয়ই তাদের মধ্যে নেই।
তাই অনলাইন জগত থেকে আয়ের যদি আপনার কোনো চিন্তা-ভাবনা থাকে, তাহলে এর জন্য অন্যান্য পথ অনুসন্ধান করুন। অনলাইন জগতের যে সমস্ত হারাম পথ রয়েছে সেই সব পথ থেকে সরে আসুন। অনেক পথ রয়েছে হালালভাবে আয় করার। অনেক চাটুকার, প্রতারক ডাবল বা কয়েকগুণ প্রফিটসহ অনেক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়। এগুলির দিকে নজর দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন। আপনাকে টাকা দেওয়ার জন্য কেউ বসে নেই বরং ফুসলিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য বসে আছে। তাই প্লিজ এসব হারাম পথের দিকে না গিয়ে এবং বাইনারি ব্রোকার থেকে সরে আসুন। কারণ যাই যতো কথাই বলুক না কেনো, যতো যুক্তিই দেক না কেনো হারাম তো হারামই। আর যারা এসব হারাম কাজ করে তাদেরও ভালো ভালো যুক্তি রয়েছে, তারা এগুলি প্রয়োগ করে মানুষকে বিভ্রান্তও করছে। আমাদের সমাজে আমরা ছোটবেলা থেকে যা জেনেছি, শুনেছি ও শিখেছি তার সবকিছুই ভুল বলে মনে হবে যদি আপনি “হাদীসের নামে জালিয়াতি” বইটি পড়েন এবং ইউটিউবে “বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত ১০০টি জাল হাদীস” এর ১০টি ভিডিও দেখেন।
সুতরাং আপনারা অনলাইন জগত থেকে আয় করতে ফরেক্সসহ অন্যান্য হালাল পথের দিকে নজর দিন। আমার অনেক অনলাইন আয়ের মাধ্যম জানা আছে, যেগুলিতে খুব সহজেই বিনিয়োগ না করেও আয় করা যায়। তবে এগুলি অন্যকোনো দিন শেয়ার করবো ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে বলবো, অনলাইন জগত থেকে আয়ের জন্য ভালো একটি পথকে বেছে নিয়ে অধ্যয়ন করুন, অনুশীলন করুন এবং ধৈর্য ধরে লেগে থাকুন। সফলতা পাবেনই ইনশাআল্লাহ।

Check Also

44 Forex Trading Tips

01. Time is your friend in the market, yet most traders make it into an …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language »