Home / Article / বেকারত্বের অবসান ঘটাতে যুব সমাজের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক

বেকারত্বের অবসান ঘটাতে যুব সমাজের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক

আলোচনা শুরু করার আগে আসুন আমরা একনজরে বেকারত্বের চিত্র দেখে নিই।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (GED) সম্প্রতি Study on employment, productivity and sectoral investment in Bangladesh শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেশে বেকারত্বের নতুন চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) নির্দিষ্ট সময় পরপর বেকারত্ব, শ্রমশক্তি, কর্মজীবির সংখ্যা- এসবের তথ্য-উপাত্ত সরকারিভাবে প্রকাশ করলেও GED প্রথমবারের মতো এ ধরনের জরিপ করল।
• আন্তর্জাতিক শ্রস সংস্থার (ILO) নিয়ম অনুযায়ী, মজুরির বিনিময়ে সপ্তাহে এক ঘণ্টার কম কাজের সুযোগ পান, এমন মানুষকে বেকার হিসেবে ধরা হয়।
• দেশে সার্বিকভাবে বেকারের সংখ্যা এখন ২১ লাখ, তাদের মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ আর নারী ৯ লাখ। তারা সপ্তাহে এক ঘণ্টাও মজুরির বিনিময়ে কাজ পাননি।
• বেকারত্বের হার ৩.১%
• একশ্রেণির তরুণ-তরুণী আছেন (১৫-২৯ বছর বয়সী), যারা কাজের মধ্যেও নেই, আর পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণেও নেই। তারা হলেন ছদ্মবেকার।
• দেশে এমন ছদ্মবেকারের সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ।
• নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নন কিংবা পছন্দের কাজ পাচ্ছেন না, এমন কর্মজীবির সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি এবং নারীর সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ।
-এদের কেউ টিউশনির মতো অস্থায়ী কাজ করেন, কেউ কেউ চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন। আবার কেউ শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাননি। কারও কারও মজুরিতে পোষায় না। GED’র ভাষায়, এ ধরনের কর্মসংস্থানকে বলা হয়েছে Underemployment.
• দেশে ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ। তারা কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন।
-কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে মজুরির বিনিময়ে কাজ করেন ৬ কোটি ১৯ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৫৯ লাখ আর নারী ১ কোটি ৬০ লাখ।
এই থেকেই বুঝা যায় বাংলাদেশে বেকারত্বের চিত্র কতটা ভয়াবহ।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ২০টি বছর শিক্ষার পিছনে বিনিয়োগ করে যদি ১৫/২০ হাজার টাকা বেতনের কর্ম কপালে না জুটে তাহলে অর্থ ও সময় উভয় লস মনে হয়। পাশাপাশি মানসিক বিপর্যয়ের আশংকাও থেকে যায়। সবচেয়ে বড় ভয় বেকারত্বের কশাঘাতে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার আশংকা।
আমাদের সমাজ জীবনে বেকারত্ব বিশাল একটি ফ্যাক্টর। কিন্তু এখান থেকে মুক্তির উপায় অবশ্যই আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এ যুগে যদি কোন শিক্ষিত লোক বেকার ঘুরে বেড়ায়, তাহলে তা অবশ্যই বেদনাদায়ক। এজন্য আমাদের উচিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করে সাজানো। যেন দেশে এবং বাইরে যেকোনো স্থানে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে আমরা নিজেদের প্রমাণ দিতে পারি। শুধুমাত্র অফিসে বসে কাগজ-কলম নিয়ে ব্যস্ত থাকার নাম উন্নত জীবন নয়। বরং এর বাইরেও বিশাল একটি জগত রয়েছে যা আমাদেরকে বেকারত্বের হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে আর তা হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা।
তাই আমাদের দেশের বেকারদের আত্ম-কমর্সংস্থানমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। কাজ শিখতে হবে এমন কাজ, যে কাজের মূল্য এখন তো আছেই এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো হবে। আর এমন কাজই হলো, আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং। আর এ পেশায় দিন দিন কাজের চাহিদা বাড়ছে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে। অন্যভাবে বলা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের একদল যুবক খুঁজে পেয়েছে তাদের সুন্দর একটি জীবনের নিশ্চয়তা; যাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং। যা হাজার হাজার তরুণের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। সুতরাং শিক্ষা জীবন থেকেই এসব কাজের প্রতি মনোযোগী হলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে না। দিনের পর দিন ‘চাকরির খবর’ পত্রিকাটির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবেনা। জীবনের অর্জন ও একটি নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আজ আমি দীপ্ত কন্ঠে আমাদের যুবসমাজকে এ নিশ্চয়তা দিতে পারি।
আমাদের বুঝা উচিত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ২০টি বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে যখন আমরা ১৫,০০০/= টাকা বেতনের চাকরি পাচ্ছিনা, সেখানে ফ্রিল্যান্সিং জগতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখাও উচিত নয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক দিক নির্দেশনা, কর্ম উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস। এখানে যেকোনো প্লাটফর্মে দাঁড়াতে বহুমুখী কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবেই আমরা যেকোনো একটি সাইড নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি।
সুতরাং ছাত্র জীবন থেকেই আমাদেরকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেস সম্পর্কে ধারণা নেয়া উচিত। তবেই আমরা ভাল একটি সূচনা করতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের আগমন কর্ম জীবনে হয়, তাহলে আমাদেরকে বহুমূখী প্রতিকুলতার সম্মুখীন হতে হবে, তবে সেটাও সম্ভব।
অতএব আমাদের শিক্ষিত যুব সমাজের প্রতি আবেদন থাকবে, যদি তোমরা বেকারত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে চাও, সুন্দর একটি আগামীর নিশ্চয়তা চাও, তবে ছাত্র জীবন থেকে সচেতন হও। অহেতুক আড্ডাবাজি, সোস্যাল মিডিয়া নিয়ে পড়ে থাকা, কাউকে ফুল দেয়া, রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা ইত্যাদি সব ফালতু, অর্থহীন অভ্যাস ত্যাগ করে এখন থেকে পরিশ্রমী হয়ে উঠার চেষ্টা করো এবং তথ্য প্রযুক্তির কোনো একটি কাজে মনোনিবেশ করো। ইনশাআল্লাহ সুন্দর এক আগামী তোমাদেরকে হাতছানি দিবে………।

Forex Bangladesh -বাংলাদেশে ফরেক্স মার্কেট সম্ভাবনা
ফরেক্স ট্রেডিং বর্তমান বিশ্বে নির্ভরযোগ্য একটি ট্রেডিং প্লেস ও বহুমুখী আয়ের উৎস হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে। যার ছোঁয়া আমরাও পেয়েছি, এটি এক বিশাল সম্ভাবনাময় মার্কেট প্লেস। আমাদের বেকারত্ব নিরসনে ফরেক্স হতে পারে বড় একটি সাপোর্ট। ইতোমধ্যে আমরা অনেকেই এ মার্কেট প্লেসে নিজেদের অবস্থান বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।ফলে উন্নত দেশের বিনিয়োগকারীগণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাই স্কীল্ড ফরেক্স ট্রেডারদেরকে নিজেদের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করছেন যা আমাদের মত মধ্যম আয়ের দেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
এছাড়া বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং জগত বা ইন্টারনেট ভিত্তিক আয়ের উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশের গড় বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ কয়েকশ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমাদের প্রত্যাশা ইন্টারনেট ভিত্তিক এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের আউটসোর্সিং সেক্টর থেকে গড় বাৎসরিক আয় ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা যা আমাদের বর্তমান জিডিপিতে ৬% অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে আমরাও তথ্য প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও বিশাল অবদান রাখতে নিরলস কাজ করতে পারি। তাই এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এগিয়ে আসুন, আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু অবহেলায় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

Check Also

44 Forex Trading Tips

01. Time is your friend in the market, yet most traders make it into an …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language »