Home / Article / সবার জন্য ফরেক্স

সবার জন্য ফরেক্স

যখন রোবট আবিষ্কার হলো এবং রোবট-এর কাজ বা কার্যক্রম সম্পর্কে লোকজন জানলো তখন মানুষের মাঝে এই ধারনা জন্মালো যে, মানুষের কাজ যদি রোবটই করে তাহলে ভবিষ্যতে মানুষের কোন কাজ থাকবে না বা থাকলেও কমিয়ে যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে দেশে বেকারত্বের হার আরো বেড়ে যাবে। কিন্তু এখন আমি নিজেই বুঝতে পারছি, সে ধারনা সঠিক নয়। কাজের ক্ষেত্র অন্যদিকে কমলেও বিপরীতে অন্যক্ষেত্রে দ্বিগুণ বেড়েছে। বরং সারাবিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। ইন্টারনেটের বদৌলতে আমরা ঘরে বসে সারা পৃথিবীর অনেক কাজই করে দিয়ে আয় করতে পারছি। শুধু কাজ নয়, ইকমার্সের মাধ্যমে পণ্যও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছি। প্রতি সেক্টরে প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, এক সময় আমরা মুঠোফোনের কল্পনাও করিনি। তারপর মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেন তো ভাবিই নি। তাও আবার এক মিনিটের মধ্যে আমরা যেকোনো স্থানে থেকেই আর্থিক লেনদেন করতে পারছি। এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র অনলাইন জগতের মাধ্যমে।
আবার ভাবুন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সবকিছুর দাম বেড়ে গেলেও প্রযুক্তির দাম শুধু কমছে তো কমছেই। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে একটি রঙিন টিভি বা ফ্রিজের দাম কত ছিলো আর এখন কত? আকাশ-পাতাল পার্থক্য যা আমরা ভাবিইনি একসময়। আবার সেকেলের প্রযুক্তি এখন অচল হয়ে কত না আপডেট হয়েছে। কত যে নিত্য নতুন ফিচার সংযুক্ত হচ্ছে, আজ যা আমাদের কল্পনাতীত অদূর ভবিষ্যতে হয় তো তাই সম্ভব হবে। তাই প্রযুক্তিকে যে অস্বীকার করবে সেই পিছিয়ে পড়বে। সুতরাং আমাদেরকে প্রযুক্তির জ্ঞান সম্পর্কে জানতে ও শিখতে হবে এবং কাজে লাগাতে হবে। তাহলে আমরাও সারা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবো, পিছিয়ে পড়তে হবে না আমাদের নিজেদের এবং সেইসাথে আমাদের দেশকেও।
আরো একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, আগে আমরা কী কী জিনিস ব্যবহার করতাম, তার একটি তালিকা যদি করা যায় তাহলে হয় তো বলা যাবে- ঘড়ি, টেপ রেকর্ডার, রেডিও, সিডি, ভিসিআর, টর্চ লাইট, এলার্ম ঘড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সেগুলো এখন আলাদা আলাদাভাবে না কিনে একটি মোবাইল কিনলেই উপরোক্ত সবগুলো ফিচারই তার সাথে থাকছে। সেজন্য এখন রেডিও বা ঘড়ি মেরামতকারী ব্যক্তি বা দোকান দেখা যায় না। কারণ মানুষ এগুলো আর আলাদাভাবে ব্যবহার করে না। মোবাইলেই সময় দেখা যায় সেইসাথে টর্চ লাইট হিসেবেও কাজ করছে। মেমোরি কার্ড থেকে ভিডিও দেখা ও অডিও শুনা যাচ্ছে। তবে ঐ সমস্ত মেরামতকারীর মধ্যে তারাই এখনও টিকে আছে যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মোবাইল মেরামত করার প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তারা আগের পেশা বাদ দিয়ে মোবাইল মেরামতের ব্যবসা করে ভালো আয় করছে। আর যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলাতে পারেনি তারা ছিটকে পড়ে মানবতের জীবনযাপন করতে হচ্ছে অথবা অন্যকোনো পেশাতে যোগদান করতে হয়েছে।
এখন আসি আমরা ফরেক্স নিয়ে। ফরেক্স এমন একটি পেশা ও বিষয় যেখানে যেকোনো শিক্ষিত ও মেধাসম্পূর্ণ ব্যক্তিই এর থেকে সুফল পেতে পারে। যেকোনো কলেজ বা ভার্সিটির ছাত্র, শিক্ষক, গৃহিণী, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী, ডাক্তার, গবেষক অথবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি অর্থাৎ যেকোনো পেশার বা যেকোনো ধরনের ব্যক্তি এ কাজ বা ব্যবসাকে এক্সট্রা ইনকাম সোর্স হিসেবে নিতে পারে (তাই বলে মুর্খরা বা যাদের প্রপার নলেজ নেই তারা পারবে না।) কারণ, এখানে আপনি স্বাধীন। আপনি কতক্ষণ সময় দিবেন এটা আপনার উপরই নির্ভর করে। প্রতিদিন ১ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ১ ঘণ্টা কোন সমস্যা নেই। আপনার যখন ইচ্ছা বা আপনি যখন সময় পান তখনই আপনি এ কাজে আত্মনিয়োগ করে আয় করতে পারবেন। আর যাদের পর্যাপ্ত সময় আছে বা যারা বেকার তারা ফুলটাইম হিসেবেও এটাকে পেশা হিসেবে নিয়ে আয় করতে পারেন।
আমরা যদি এক নজরে ফরেক্স এর সুফলগুলো বলি তা হলো- এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন পেশা, বিশ্বের যে কোন প্রান্ত হতে Trading সুবিধা, ২৪ ঘণ্টা আয়ের সুযোগ, যে কোন সময় অর্থ উত্তোলন করা যায়, এখানে কোন প্রতিযোগীতা নেই, আপনিই আপনার Business owner, এটি শুধু ট্রেডিং এ সীমাবদ্ধ নয়, বিনা পুঁজিতেও এ ব্যবসা করা যায়, আয়ের কোন সীমাবদ্ধতা নেই, পার্ট টাইম কর্মক্ষেত্রের সুযোগ ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে আপনারাই বুঝুন এই পেশা বা ব্যবসা সবার জন্য কীনা? এগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে benefit-of-forex-trading আর্টিকেলটি পড়ুন।
ট্রেডিশনাল কোন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করলে তার জন্য ভাল লোকেশন বা পজিশনে জায়গা নিয়ে ডেকোরেশন করতে হয়। তারপর ব্যবসায়িক উপকরণ কিনে কেনাবেচার জন্য কর্মচারি নিয়োগ দিতে হয়। প্রচার শেষে ব্যবসা শুরু করে যদি কাস্টমার না পাওয়া যায় তাহলে মাস শেষে ভাড়া ও কমর্চারির বেতন দিতে হয়। কিন্তু আপনি যদি সেই টাকা প্রযুক্তির কাজ শিখে বিনিয়োগ করেন, তাহলে আপনার এগুলো কিছুই করতে হবে না। আপনি নিজেই আপনার ব্যবসার বস হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। ভাড়া ও কর্মচারির বেতনের চিন্তা করতে হবে না। আর আপনার যদি আগে থেকেই ব্যবসা থাকে তাহলেও আপনি যখন কাস্টমার থাকবে না তখন এখানে সময় দিয়ে অতিরিক্ত ইনকাম করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা ভ্রমণ পিপাসু তাদের জন্য এ কাজ খুবই ভালো এবং উপযুক্ত । কারণ এ ব্যবসা ল্যাপটপ বা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেও করা যায়। সেহেতু আপনি সারা পৃথিবীর যেখানেই যান না কেনো সেখানেই আপনার এ ব্যবসা চালাতে পারবেন এবং প্রফিটের টাকা দিয়ে ঘোরাফেরা করতে পারবেন।
আবার অনেকে অনেক টাকা খরচ করে বিদেশ গমন করছে। কারণ বাংলাদেশে বেকারত্বের যে ভয়াবহ চিত্র তাতে এ দেশে চাকরি পাওয়া সোনার হরিণ। আর চাকরি বাজারের অবস্থাভেদে আর্থিক লেনদেন ছাড়া বা মামা ছাড়া অনেকেরই চাকরি জোটে না। তবে মেধাভিত্তিক যোগ্যতা অনুসারেও অনেকে চাকরি পাচ্ছে। আমি বলতে চাচ্ছি যেটা সেটা হলো, আমরা বিদেশে যাই আত্মকর্সংস্থানের জন্য। আর বিদেশ থেকে এতে দেশের রেমিটেন্সও অর্জন হয়। কিন্তু এটা তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে দেশে থেকেও করা যায়। যারা ব্যবসায়িক কাজে বা ভ্রমণে যায় তাদের কথা আলাদা। আবার কাজের জন্য টাকা খরচ করে যারা দেশের বাইরে যায়, এদের অনেকে সফল হতে পারে আবার অনেকেই সফলতা লাভ করতে পারে না। অনেকেই ভালো কাজ না পেয়ে আবার দেশেই ফেরত আসে। আবার অনেকে দালালের খর্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দুঃখ কষ্ট নির্যাতন ভোগ করে দেশে ফেরত এসে আরো কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়ে নিম্নতর কাজ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু সে যদি সেই কাজ বিদেশ যাওয়ার আগেই করতো তাহলে তার আর্থিক ক্ষতি হতো না। যাই হোক, আর যারা কাজ পায় তাদের বিদেশ যাওয়ার খরচ তুলতেই কয়েক বছর লেগে যায়। অথচ তারা যদি এ দেশেই আত্মকর্স্ংস্থানমূলক কোনো কাজ শিখে সেই টাকা বিনিয়োগ করতো তাহলে কতই না ভালো হতো।
তবে আমি যত কথাই বলি না কেন আমাদের দেশের বেকাররা হলো অলস প্রকৃতির লোক। এদের অনেকেই কোন কাজই ভালোভাবে শিখতে চায় না। তাদের কারিগরিমূলক কোন কাজ শেখার বা কোন কাজে লেগে থেকে শেখার কোন মান-মানসিকতা নেই। এই কথাগুলো এই জন্য বলছি যে, কম্পিউটার জগতে বা আউটসোর্সিং জগত থেকে আয় করার পূর্বশর্ত হলো উপযুক্ত ও সফল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা। আর এই জন্য অর্থও ব্যয় করতে হয়। অনেকে আবার অর্থ খরচ না করে বর্তমানে মিডিয়ার যুগে গুগল সার্চ করে বিভিন্ন সাইট থেকে ও ইউটিউব থেকে শিখতে চায়। কিন্তু সেটা পরিপূর্ণভাবে সম্ভব নয়। বরং এতে সময় ও ধৈর্য দুটোই নষ্ট হবে। ফলশ্রুতিতে একসময় এ পেশায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না। মনে রাখতে হবে, এগুলি থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে বা এগুলি সহায়ক হবে তখনি যখন সেই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হবে।
সারা পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তিই এর সাথে জড়িয়ে আছে এবং পড়ছে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এখানে বিনিয়োগ করে সুফল অর্জন করছে। তাছাড়াও বড় বড় হাসাপাতালের ডাক্তার, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা এখানে বিনিয়োগ করছে এবং তাদের কাজের ফাঁকে বা অবসরে তারা এখানে সময় দিচ্ছে ও ভালো প্রফিট করছে। এতে দেশের জন্য তারা ভালো অবদান রাখছে ও রেমিটেন্স অর্জন হচ্ছে এবং তা ক্রমেই বাড়ছে।
তবে আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং জগতটা হলো বিশাল। এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এগুলো সম্পর্কে আপনি আগে জেনে নিন এবং সিদ্ধান্ত নিন আপনি কোনটির জন্য      উপযুক্ত। তারপর সেই কাজে ট্রেনিং নিন ও কাজে মনোনিবেশ করুন। আর অন্যান্য আউটসোর্সিং থেকে ফরেক্স কেনো ব্যতিক্রম এ সম্বন্ধে জানতে এ সাইটের ফরেক্স লার্ন মেনুর লেসন-১ পড়ুন। আপনি এর যেকোনোটাতেই লেগে থাকুন এবং ধৈর্য ধরুন, সফলতা একদিন পাবেনই ইনশাআল্লাহ।
আর এটাও মনে রাখতে হবে, অনলাইন পেশার সবগুলিই হালাল নয়। এর অনেকগুলিই হারাম হিসেবে গন্য। যেমন- বেট খেলা; এটা একেবারেই হারাম। কারণ এটা সরাসরি জুয়া খেলার নামান্তর। আর ইসলাম জুয়াকে হারাম বলে ঘোষণা করেছে। পক্ষান্তরে ফরেক্স হলো একটি মার্কেট বা বাজার। এটা কীভাবে হালাল সেই সম্বন্ধে জেনে নিন ইসলামিক দৃষ্টিতে ফরেক্স কী হালাল এবং ফরেক্স মার্কেট ও জুয়ার মধ্যে পার্থক্য আর্টিকেল থেকে। সবশেষে সবার জন্য শুভ কামনা রইলো।

Check Also

44 Forex Trading Tips

01. Time is your friend in the market, yet most traders make it into an …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language »