Home / Article / ইসলামিক দৃষ্টিতে ফরেক্স কী হালাল?

ইসলামিক দৃষ্টিতে ফরেক্স কী হালাল?

ফরেক্স ট্রেডিং হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা কেনা বেচা। সেসব দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক কর্তৃক তাদের মুদ্রার একটা ইন্টারেস্ট রেট থাকে। আপনি ফরেক্স ট্রেড করলে সেই ইন্টারেস্ট রেট আপনার বেলায়ও প্রযোজ্য হবে। এই ইন্টারেস্ট মুসলিমদের জন্য হারাম। এই ঝামেলা দূর করার জন্য প্রায় সব ব্রোকার আজকাল ইন্টারেস্ট ফ্রি একাউন্ট / ইসলামিক একাউন্ট / মুসলিম ফ্রেন্ডলি একাউন্ট সাপোর্ট করে যেখানে ঐ ইন্টারেস্ট হিসাব হয় না। তাহলে সেন্ট্রাল ব্যাংক ইন্টারেস্ট যেটা হারাম সেটা থেকে আমরা মুক্ত।
এরপর আসি লিভারেজ এর ব্যাপারে। লিভারেজ হচ্ছে ব্রোকার আপনাকে ট্রেড করার জন্য বিভিন্ন অনুপাতে সুদবিহীন এবং শর্তব্যতীত ধার দিবে। যদি ব্রোকার ধার দেয়ার সময় কোন সুদ / শর্ত দিত তাহলে সেটা হারামের পর্যায়ে পড়ত। বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটেও ১:২ অনুপাতে লোন দেয়া হয়।
এখন আসি প্রোডাক্ট এর ব্যাপারে। ফরেক্স এ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা কেনাবেচা করা হয়। এরকম একদেশের মুদ্রা অন্যদেশের মুদ্রার সাথে কেনা-বেচায় হারাম কিছু নেই। আপনি আমেরিকা যেতে চাইলে আপনাকে বাংলাদেশী টাকা চেঞ্জ করে মার্কিন ডলার নিতে হবে। ধরুন আপনি আমেরিকা যাবেন। ভিসা টিকেট খাবার খরচ বাদে আপনি এক্সট্রা দশ হাজার মার্কিন ডলার নিলেন হাত খরচের জন্য। ধরি এই পরিমাণ ডলার নিতে আপনার খরচ হয়েছে ৮৪.০০ টাকা করে ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এরপর আমেরিকা গিয়ে আপনাকে জরুরী কাজে পরদিনই চলে আসতে হল। কিছু কিনতে পারলেন না। দেশে এসে দশ হাজার ডলারগুলো ভাঙিয়ে বাংলাদেশী টাকা নিতে গেলেন। দেখলেন আজকের রেট ৮৫.০০ টাকা। আপনি পেলেন ৮ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এখানে আপনি ১০ হাজার টাকা এক্সট্রা পেলেন। কিন্তু যদি আজকের রেট ৮৩.০০ থাকত তবে আপনি পেতেন ৮ লক্ষ ত্রিশ হাজার মানে আপনার ১০ হাজার টাকা লস হত। এখানে হালাল হারাম প্রশ্ন অবান্তর।
ফরেক্সে এক মুদ্রার বিপরীতে অন্য মুদ্রা ক্রয় বিক্রয় হয় তাই এতে হারাম কিছু নেই। যদি ডলারের বিপরীতে ডলার কিংবা ইউরোর বিপরীতে ইউরো কেনাবেচা হত তবে হারাম হত। কারণ ১ ডলার এর ভ্যালু সবসময় ১ ডলার, কেউ যদি ১ ডলার কে ২ ডলার দিয়ে কিনে সেটা সুদ হবে।
গোল্ড এর বিনিময়ে গোল্ড কেনা যাবে না বা সিলভারের বিনিময়ে সিলভার। যদি এর ব্যতিক্রম হয় তবে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে কেনাবেচা করা যাবে। শুধুমাত্র মনে রাখতে হবে এক্সচেঞ্জ হতে হবে হ্যান্ড টু হ্যান্ড । যদি দেরী হয় তবে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এখন ফরেক্স ট্রেড মানে স্পট ফরেক্স ট্রেড। এখানে আপনি বর্তমান প্রাইসেই কেনা বেচা করতে পারবেন, তাই এখানে দেরী হওয়ার চান্স নেই।
হ্যান্ড টু হ্যান্ড কথাটা নিয়ে অনেকে বিতর্ক তুলতে পারে। যেমন আমরা যদি মুদ্রা কেনাবেচা করি তবে আমাদের হাতে হাতে মুদ্রা নিয়ে ঘুরতে হবে এবং কেনাবেচা করতে হবে। এটা অমূলক। ইন্টারনেটের যুগে ঘরে বসে লেনদেন সহজ হয়ে যাওয়ার ফলে কোন কিছু কিনতে বা বিক্রি করতে ঐ প্রোডাক্ট নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হয় না। এই যুগে হাতে না রেখে আমরা একাউন্ট খুলে রাখি। ব্যাংকে একাউন্ট / শেয়ার মার্কেটে একাউন্ট এরকম। ব্যাংকে আপনি কাউকে চেক দিলে ব্যাংক কী করে? আপনার একাউন্ট থেকে টাকাটা ঐ ব্যক্তির একাউন্টে ট্রান্সফার করে দেয়। শেয়ার মার্কেটেও এরকম। সেলারের একাউন্ট থেকে শেয়ারগুলো বায়ার এর একাউন্টে ট্রান্সফার করে দেয়। এরকম ফরেক্সেও একই। আরেকজনের একাউন্ট থেকে আপনার একাউন্টে টান্সফার করে দেয়। এটাকে একাউন্ট টু একাউন্ট ট্রান্সফার বলা যায়।
একনজরে দেখি ফরেক্সে কি ঘটে –
১. আপনি দেখলেন ইউরো / ইউএসডি দাম ১.১০০০। আপনি এনালাইসিস করে দেখলেন ইউরো বাড়ার সম্ভাবনা প্রচুর, আপনি কিছু ইউরো / ইউএসডি কিনবেন বলে মনস্থির করলেন।
২. আপনি একটা ব্রোকার সিলেক্ট করলেন, যে আপনার হয়ে কোন সেলার থেকে ইউরো /ইউএসডি কিনে দিবে। ঐ ব্রোকারে আপনি একটা ইসলামিক একাউন্ট খুললেন।
৩. ঐ ব্রোকার আপনাকে একটা প্রাইস দিল যে এখন ইউরো / ইউরো ইউএসডি ১.১০৫০ রেটে আছে। আপনি ঠিক করলেন এই রেটেই কিনবেন। আপনি BUY এ ক্লিক করলেন।
৪. আপনার বাই অর্ডার ব্রোকার রিসিভ করল এবং সাথে সাথে ১.১০৫০ রেটে আপনার জন্য ইউরো / ইউএসডি কিনে আপনার জন্য নির্দিষ্ট একাউন্টে রেখে দিল।
৫. এরপর কিছুদিন পর ইউরো ইউএসডি দাম বাড়ল এবং আপনি সেল করে দিলেন।
এখানে আপনি হারাম কিছু করেন নি। ইউএসডির বিপরীতে ইউরো কিনেছেন, ইন্টারেস্ট ফ্রি ইসলামিক একাউন্টে ট্রেড করছেন এবং আপনার অর্ডার হ্যান্ড টু হ্যান্ড ট্রান্সফার হয়েছে (সেলারের একাউন্ট থেকে আপনার একাউন্টে)। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

Check Also

44 Forex Trading Tips

01. Time is your friend in the market, yet most traders make it into an …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Language »